পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না মমতা? আজ বিকেলে কালীঘাট থেকে কোন ‘বিস্ফোরক’ চাল চালবেন দিদি-অভিষেক?

দেড় দশকের একাধিপত্যের অবসান। বঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। কিন্তু এই রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই দানা বাঁধছে চরম বিতর্ক। নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে পরাজয় এবং রাজ্যের একাধিক আসনে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে এবার সম্মুখ সমরে নামতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, মঙ্গলবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটে নিজের বাসভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক করবেন তিনি।

ভবানীপুরে হারের ধাক্কা ও গণনাকেন্দ্রের নাটকীয়তা
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র। সেখানে দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। সোমবার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোটগণনা চলাকালীন সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পর শুভেন্দু অধিকারীও সেখানে পৌঁছন। কিন্তু নাটকীয় মোড় নেয় তখনই, যখন গণনা শেষ হওয়ার আগেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে কেন্দ্র ছাড়েন মমতা।

মারধর ও ‘লুট’-এর গুরুতর অভিযোগ
গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের সামনে ফেটে পড়েন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের ভেতরে তাঁকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, “পুরো ভোট প্রক্রিয়াটাই একতরফা ছিল। ১০০-র বেশি আসনে ফলাফল লুট করা হয়েছে।” এই ঘটনায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

কালীঘাটের বৈঠকে নজর রাজনৈতিক মহলের
তৃণমূলের আসন সংখ্যা এবার ১০০-র নিচে নেমে আসায় দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা ও অভিষেকের আজকের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে তাঁরা কি গঠনমূলক বিরোধীর ভূমিকা পালন করবেন, নাকি গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বা বড় কোনও আন্দোলনের ডাক দেবেন— এখন সেটাই দেখার।

১৫ বছরের শাসনের পর এই প্রথমবার বিরোধী আসনে বসতে চলা তৃণমূলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল ঠিক কী হতে চলেছে, তা জানতে আজ বিকেলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।