নিজেদের জালেই কি ফেঁসে যাচ্ছে তৃণমূল? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভোট-ক্যালকুলেশন ঘুম কেড়েছে নবান্নের!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বেরনোর ঠিক আগের রাতে এক অদ্ভুত ‘ভোট পাটিগণিত’ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ দাবি করছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের ‘মুসলিম তোষণ’ কৌশলই এবার তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর এই মেরুকরণের অংকে ভর করেই ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির।

কী সেই ‘৩০ বনাম ৭০’-এর বিস্ফোরক অংক? বিশ্লেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তৃণমূলের অংক ছিল যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে অন্তত ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট নিশ্চিত করতে পারলেই জয় সহজ হবে। কিন্তু এখানেই পাল্টি খেয়েছে অংক। বিশ্লেষকদের যুক্তি—যদি কোনও এলাকায় ৩০ শতাংশ মুসলিম ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে যায়, আর বাকি ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটারের বড় অংশ (ধরা যাক ৪৯ শতাংশ) বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিরিখে বিজেপিই এগিয়ে যাবে। অর্থাৎ, হিন্দু ভোট একত্রিত হলে তৃণমূলের ‘ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি’ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

নিজেদের পাতা জালে কি নিজেরাই বন্দি তৃণমূল? রাজ্যের মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে বর্ধমান—সব জায়গাতেই এবার হিন্দু ভোটারদের মধ্যে এক নজিরবিহীন সচেতনতা লক্ষ্য করা গিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের দাবি, “আমরা ধর্ম নিয়ে বিভাজন করছি না, কিন্তু তৃণমূল যেভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণ করে অন্যদের অবহেলা করেছে, তাতে সাধারণ হিন্দু ভোটাররা এবার জোটবদ্ধ হয়েছেন।”

তৃণমূলের অভ্যন্তরীন সূত্রও স্বীকার করে নিচ্ছে যে, হিন্দু ভোটের এই সম্ভাব্য একত্রীকরণ নিয়ে দলের অন্দরে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। যদিও প্রকাশ্য সভায় ঘাসফুল শিবিরের নেতারা একে ‘সাম্প্রদায়িক অংক’ বলে আক্রমণ করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করেন এবং বাংলার মানুষ বিভাজনের রাজনীতি গ্রহণ করবেন না।

চায়ের দোকান থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—আলোচনা তুঙ্গে: এই গাণিতিক সমীকরণটি এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। হিন্দিভাষী ভোটার এবং প্রবাসী বাঙালিদের বড় অংশ বিজেপির পালে হাওয়া দেওয়ায় গেরুয়া শিবিরের শক্তি আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ ভোটারদের বক্তব্য, উন্নয়নের বদলে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণ করার রাজনীতি শুরু হলে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক।

আগামীকাল ইভিএম খোলার পর এই ‘৩০ বনাম ৭০’-এর অংক বাস্তবের মাটিতে কতটা ফলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।