“পরীক্ষা দিয়েছি, রেজাল্ট নিয়ে টেনশন কেন?” গণনার আগের রাতে ভবানীপুরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কী বার্তা দিলেন ফিরহাদ?

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ। সারা রাজ্য যখন স্নায়ুর চাপে ভুগছে, তখন খাস ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে জয়ের আগাম ডঙ্কা বাজালেন বিদায়ী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। রবিবার দুপুরে শহরের বিভিন্ন গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুম পরিদর্শন করতে বেরিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের প্রত্যাবর্তন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

স্ট্রংরুমের নিরাপত্তায় কড়া নজর: রবিবার দুপুরের তপ্ত রোদে ভবানীপুর এলাকার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল, বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট এবং ডেভিড হেয়ার ট্রেনিং কলেজের স্ট্রংরুমগুলো পরিদর্শন করেন ফিরহাদ। তিনি নিজে ভেতরে না ঢুকলেও বাইরে থাকা দলীয় এজেন্টদের সঙ্গে কথা বলেন। ফিরহাদ জানান, “আমাদের কর্মীরা দিনরাত মনিটরের সামনে বসে সিসিটিভি ফুটেজে নজর রাখছে। এখনও পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে বলেই খবর।”

মমতার শপথ নিয়ে বড় দাবি: আগামীকাল ফলাফল বেরনোর আগেই ফিরহাদ হাকিমের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। তিনি ৬ তারিখে শপথ নেবেন না ৭ তারিখে, সেটা ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আগের চেয়েও বেশি আসন নিয়ে আমরা ক্ষমতায় আসছি।”

কেন টেনশন নেই ফিরহাদের? বিজেপি এবার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তাও কেন চিন্তিত নন? এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরহাদ হাকিম এক অদ্ভুত ‘ছাত্র ও পরীক্ষার’ উপমা টেনে আনেন। তিনি বলেন, “টেনশন তাঁদেরই হয় যারা সারা বছর মানুষের কাজ করে না। আমরা সারা বছর পরিষেবা দিয়েছি, তাই পরীক্ষার ফলের দিন আমাদের কোনও ভয় নেই। হঠাৎ কেউ উড়ে এসে জুড়ে বসে জয় পাবে না।”

তৃণমূলের অন্দরে কড়া অনুশাসন: জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হলেও তৃণমূল নেতৃত্ব যে বিন্দুমাত্র আলগা দিতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কাউন্টিং এজেন্টদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ইভিএম-এর ব্যাটারি চার্জ ৭০ শতাংশের বেশি থাকলে কী করতে হবে, ব্যবধান কম হলে কখন পুনর্গণনার দাবি জানাতে হবে—সবই বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জয়ের সার্টিফিকেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কোনও কর্মী যেন গণনাকেন্দ্র ছেড়ে না বেরোন।

সব মিলিয়ে একদিকে ফিরহাদ হাকিমের আত্মবিশ্বাস, আর অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া হুঁশিয়ারি—তৃণমূল শিবির যে কালকের জন্য জানপ্রাণ লড়িয়ে দিতে প্রস্তুত, তা আজকের ছবিতেই স্পষ্ট।