স্টেশনে কান পাতলেই শোনা যায় আর্তনাদ! অন্ধকারের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের দেবদূত হয়ে এল পূর্ব রেল

রেল স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্ম, ট্রেনের তীব্র বাঁশি আর হাজারো মানুষের দৌড়ঝাঁপ— এই চেনা ভিড়ের মধ্যেই অনেক সময় লুকিয়ে থাকে অসহায় কিছু শৈশবের কান্নায় ভেজা আর্তনাদ। কখনও বাড়ি থেকে পালিয়ে আসা, আবার কখনও পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া শিশুদের কাছে রেলপথ হয়ে ওঠে এক বিভীষিকার নাম। কিন্তু সেই অন্ধকার দূর করে ছোট ছোট প্রাণগুলোকে আলোর পথ দেখাচ্ছে পূর্ব রেলওয়ের ‘অপারেশন নানহে ফরিশতে’ (Operation NANHE FARISHTEY)।
‘দেবদূত’ হয়ে পাশে আরপিএফ
পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেউস্কর এবং আইজি অমিয় নন্দন সিনহার নেতৃত্বে এক বিশাল কর্মীবাহিনী দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন। তাঁদের লক্ষ্য একটাই— রেলের বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্যে যেন কোনও শিশু হারিয়ে না যায়। তথ্য বলছে, এই মিশনের সাফল্য আকাশছোঁয়া। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১২০৯ জন শিশুকে উদ্ধার করার পর, ২০২৫-২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০৭-এ। উদ্ধার হওয়া এই শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পাচারকারীদের যম ‘অপারেশন আহট’
শুধু হারিয়ে যাওয়া শিশুদের উদ্ধার নয়, মানব পাচারের মতো জঘন্য অপরাধ রুখতে পূর্ব রেল চালু করেছে ‘অপারেশন আহট’ (Operation AAHT)। স্টেশনে স্টেশনে ওত পেতে থাকা পাচারকারীদের শৃঙ্খল ভাঙতে গঠন করা হয়েছে ৭০টি বিশেষ ‘অ্যান্টি-হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট’ (AHTU)। গত দুই বছরে এই ইউনিটের তৎপরতায় শতাধিক শিশুকে পাচারকারীদের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ১২৫ জন পাচারকারীকে।
নিরাপত্তার এক অভেদ্য ঢাল
রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (RPF) এই নজরদারি এখন এতটাই তীব্র যে, প্ল্যাটফর্মের কোণায় বসে থাকা কোনও নিঃসঙ্গ শিশুর ওপর নজর পড়লেই তৎপর হয়ে উঠছেন জওয়ানরা। প্রতিটি সফল উদ্ধার অভিযান মানেই একটি পরিবারের চোখের জল মোছা এবং একটি হারানো শৈশবকে তার আপন ঠিকানায় ফিরিয়ে দেওয়া।
পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি এই মহৎ উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “আমরা প্রতিটি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করতে বদ্ধপরিকর। রেল স্টেশন যেন কোনও শিশুর কাছে আতঙ্কের না হয়ে আশ্রয়ের জায়গা হয়, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”