ভোট গণনার আগেই মালদায় NIA-এর ‘সারপ্রাইজ’ হানা! হাজিরা এড়ালেন ৯ হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা, তুঙ্গে উত্তেজনা

আগামীকাল রাজ্যের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। কিন্তু গণনা শুরুর ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে মালদা জেলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) প্রবল সক্রিয়তায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মোথাবাড়ি-কাণ্ডের তদন্তে কালিয়াচকের ৯ জন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে নোটিশ পাঠাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। যদিও রবিবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউকেই হাজিরা দিতে দেখা যায়নি।
মাঝরাতে পৌঁছল সমন, তালিকায় বড় নাম
শনিবার রাত তখন প্রায় সাড়ে ১১টা। হঠাতই কালিয়াচকের একাধিক তৃণমূল নেতার বাড়িতে হাজির হয় এনআইএ-এর নোটিশ। তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম মালদা জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ আবদুর রহমান। তিনি সুজাপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট। এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি সারিউল ইসলাম, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ কামাল হোসেন এবং বর্ষীয়ান নেতা হাজি কেতাবুদ্দিন-সহ আরও পাঁচজন।
কমিশনের ‘অঙ্গুলিহেলন’ না কি তদন্তের প্রয়োজন?
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গত ১৫ এপ্রিল মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে রাখার ঘটনার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই এই তলব। তবে গণনার ঠিক আগে এই পদক্ষেপে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “তদন্তের নামে নোংরামি করা হচ্ছে। কাউন্টিং-এর ঠিক আগেই কেন এই নোটিশ? আসলে এজেন্টের মনোবল ভেঙে দিতে বিজেপি ও এনআইএ-এর এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। তবে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ই-মেইল করে জানানো হয়েছে যে, গণনার আগে কোনও নেতাই হাজিরা দিতে পারবেন না।
পালটা আক্রমণে বিজেপি
এদিকে এনআইএ-এর সক্রিয়তা নিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর মন্তব্য বেশ আক্রমণাত্মক। তিনি দাবি করেন, “যাঁদের ডাকা হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে উগ্র মৌলবাদী ও রোহিঙ্গাদের যোগাযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেই, এতে বিজেপির কিছু বলার নেই।”
কালিয়াচকে ঘনীভূত রহস্য
মোথাবাড়ি-কাণ্ডে এনআইএ-এর তৎপরতা এই প্রথম নয়। এর আগে প্রচারের সময় কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি আসিফ শেখের গ্রেফতারির মতো ঘটনাও ঘটেছে। গণনার দিন যত এগোচ্ছে, কালিয়াচক জুড়ে আতঙ্ক ও কৌতূহল পাল্লা দিয়ে বাড়ছে— গ্রেফতারির তালিকা কি আরও দীর্ঘ হবে?