বিজয় মিছিলে কি জারি হবে নিষেধাজ্ঞা? ৪৩১ পর্যবেক্ষকের কড়া পাহারায় বদলে যাচ্ছে গণনার নিয়ম! এখনই জেনে নিন

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মেগা-ফলাফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যের ২৯৩টি আসনে (ফলতা ব্যতীত) শুরু হবে ভোট গণনা। কিন্তু তার আগেই ‘ভোট চুরি’ আর ‘কারচুপি’র আশঙ্কায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। শাসক থেকে বিরোধী— সব শিবিরের বুকেই এখন দুরুদুরু কাঁপন। ঠিক এই টানটান উত্তেজনার মুহূর্তেই বড় বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন।
‘ভোট চুরির প্রশ্নই নেই’, আশ্বস্ত করল কমিশন
গণনা প্রক্রিয়ায় কোনওরকম কারচুপি হতে পারে কি না, তা নিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের দিকে আঙুল তুলছে, তখন মুখ খুললেন রাজ্যের বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তিনি সরাসরি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “ভোট চুরির কোনও সম্ভাবনাই নেই।” তাঁর এই মন্তব্য গণনার আগের দিন নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় আশ্বস্ত করেছেন যে, কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং গণনার দিন কোনওরকম গন্ডগোল হতে দেওয়া হবে না।
৪৩১ জন ‘স্পেশাল’ পাহারাদার
গণনা কেন্দ্রের ভেতরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার কমিশন নিয়োগ করেছে ৪৩১ জন বিশেষ গণনা পর্যবেক্ষক (Counting Observer)। জেলাভিত্তিক নজরদারিতেও রয়েছে বড় চমক। সবচেয়ে বেশি নজর থাকছে উত্তর ২৪ পরগনায়, যেখানে ৩৩টি আসনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৪৯ জন পর্যবেক্ষক। এর ঠিক পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৪৫ জন)। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ারে সবচেয়ে কম, মাত্র ৬ জন পর্যবেক্ষক থাকছেন।
রাডারে বিজয় মিছিল ও জমায়েত
গণনা কেন্দ্রের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিড় এবং ফলাফল পরবর্তী বিজয় মিছিল নিয়েও কড়া নজর রাখছে কমিশন। সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, গণনাকেন্দ্রের বাইরের ক্যাম্পগুলোতে জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। বিজয় মিছিল নিয়ে বেশ কিছু আগাম খবর বা ‘ইনপুট’ কমিশনের হাতে রয়েছে, যা খতিয়ে দেখে খুব শীঘ্রই বড় কোনও নির্দেশিকা জারি হতে পারে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে এই ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই। গণনাকর্মীদের জন্য কমিশনের কড়া নির্দেশ— সামান্য গাফিলতি হলেই জুটবে কঠোর শাস্তি। ইভিএম-এর লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা জানতে চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এর লাইভ আপডেটে।