এক মুহূর্তের অসতর্কতা আর সব শেষ! মাওবাদী বারুদের স্তূপে প্রাণ দিলেন ৩ ডিআরজি জওয়ান, রণক্ষেত্র কাঙ্কের

দেশের লাল মানচিত্রের মাটি ফের একবার জওয়ানদের রক্তে ভিজে উঠল। শনিবার বিকেলে ছত্তিশগড়ের কাঙ্কের জেলায় মাওবাদীদের পুঁতে রাখা এক শক্তিশালী আইইডি (IED) বিস্ফোরণে শহিদ হলেন ৩ জন ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (DRG) জওয়ান। গুরুতর আহত আরও এক জওয়ান বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। ২ মে-র এই মর্মান্তিক ঘটনাটি নিরাপত্তা বাহিনীর অন্দরে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

অপারেশন ডিমাইনিং ও আকস্মিক বিপর্যয় পুলিশ ও প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কাঙ্কেরের ছোটে বেথিয়া থানা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে গোপন খবর ছিল যে মাওবাদীরা গভীর জঙ্গলে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছে। সেই মতো ডিআরজি-র একটি বিশেষ দল ‘ডিমাইনিং’ বা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার অভিযানে নামে। নারায়ণপুর সীমান্ত সংলগ্ন ঘন জঙ্গলের ভেতরে একটি আইইডি শনাক্ত করার পর সেটি নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছিলেন জওয়ানরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ।

শহিদ ৩ বীর সন্তান বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই শহিদ হন ইন্সপেক্টর সুখরাম ভাট্টি, কনস্টেবল কৃষ্ণ কোমরা এবং সঞ্জয় গড়পালে। গুরুতর জখম অবস্থায় কনস্টেবল পরমানন্দ কোমরাকে এয়ারলিফ্ট করে রায়পুরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

মুখ্যমন্ত্রীর শোক ও কড়া বার্তা এই ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই শহিদ জওয়ানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই। তিনি বলেন, “বীর জওয়ানরা রাজ্যের সুরক্ষায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের এই বলিদান বৃথা যাবে না। সরকার শহিদ পরিবারগুলির পাশে সবরকমভাবে রয়েছে।” রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, নকশাল দমনে এই অভিযান থামবে না, বরং আরও দ্বিগুণ শক্তিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে আঘাত হানা হবে।

বারুদের ওপর দাঁড়িয়ে বাস্তার? আইজি পি. সুন্দররাজ জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই চিরুনি তল্লাশি চলছিল। ডিআরজি জওয়ানরা স্থানীয় হওয়ার সুবাদে জঙ্গলের অলিগলি তাঁদের পরিচিত ছিল, তবুও জঙ্গলের গভীরে মাওবাদীদের পাতা মৃত্যুর ফাঁদ শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল তিনটি তরতাজা প্রাণ। যদিও সরকারের দাবি ছত্তিশগড় বর্তমানে মাওবাদীমুক্ত হওয়ার পথে, কিন্তু আজকের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে লুকোনো বারুদ এখনও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

শহিদ জওয়ানদের পরিবারের কান্না আর সহকর্মীদের চোখের জলে আজ ভিজছে কাঙ্কেরের মাটি। ৪ মে সারা দেশে যখন ভোট গণনার উত্তেজনা, তার ঠিক আগে জওয়ানদের এই মৃত্যু সংবাদে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা এই ঘটনার প্রতি মুহূর্তের আপডেটে নজর রাখছি।