মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের এক ‘না’-তে রণংদেহি ইরান, আছড়ে পড়বে কি পরমাণু আতঙ্ক?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের কালো মেঘ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কি তবে শেষ হতে চলেছে? ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক কড়া অবস্থান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনমনীয় মনোভাব অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
ইরানের চরম হুঁশিয়ারি ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের উপপ্রধান মহম্মদ জাফর আসাদি এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়েছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের কোনো কথা বা চুক্তির ওপর ভরসা করার দিন শেষ। ইরানের বার্তা সংস্থা ‘ফার্স’-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের সমস্ত পদক্ষেপই মূলত সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করার জন্য। আসাদির মতে, আমেরিকার আসল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে তেলের দামের পতন ঠেকানো এবং নিজেদের তৈরি করা কূটনৈতিক জটিলতা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমেরিকার যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতা বা বোকামির কড়া জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।”
কেন ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পর শান্তি ফেরাতে গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। কিন্তু টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। পরবর্তীতে ইরান একটি ‘ত্রিস্তরীয়’ প্রস্তাব দিলেও হোয়াইট হাউস তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য ফ্লোরিডার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরান এমন কিছু সুবিধা চাইছে যা মেনে নেওয়া অসম্ভব। ট্রাম্পের ভাষায়, “ওরা চুক্তি করতে চায় ঠিকই, কিন্তু আমি এই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নই।” পাশাপাশি ইরানের নেতৃত্বকে “অসংগঠিত” বলে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এখন ২-৩টি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর ইরান আবারও পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াশিংটনের কাছে। তবে সেই গোপন প্রস্তাবে কী লেখা আছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এই প্রস্তাবটিই হতে পারে শান্তির শেষ সুযোগ। যদি এইবারও সমাধান সূত্র না মেলে, তবে মধ্য এশিয়ায় ফের বড়সড় সামরিক সংঘাত শুরু হওয়া এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। বর্তমানে গোটা বিশ্বের নজর এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক প্রস্তুতির ওপর।