বিরোধীদের গোপন নথিতে মাত্র ৭৮! ভোটের ফলের আগেই ‘বোমা’ ফাটালেন কুণাল, উল্টে যাবে কি সব হিসেব?

৪ মে বাংলার মসনদে কে বসবে, তা নিয়ে যখন কোটি কোটি মানুষের রক্তচাপ বাড়ছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক দাবি করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে খই ফুটিয়ে দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বিরোধী শিবিরের একটি ‘গোপন নথি’ এখন তৃণমূলের হাতে। আর সেই অভ্যন্তরীণ নথিতে না কি বিরোধীরা নিজেরাই কবুল করেছে যে, ২৯৪ আসনের মধ্যে জয়ের ধারেকাছেও নেই তারা!

গোপন নথিতে মাত্র ৭৮! শনিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে কার্যত বোমা ফাটিয়ে কুণাল ঘোষ জানান, তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ছে এমন একটি বড় রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের রিপোর্ট তিনি হাতে পেয়েছেন। কুণালের কথায়, “আমি দলটির নাম বলব না, কিন্তু তাদের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দলের ৬ জন শীর্ষ নেতা এক গোপন বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে তাঁরা নিজেরা আলোচনার পর মাত্র ৭৮টি আসন চিহ্নিত করেছেন যেখানে তাঁদের জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে।”

‘ডাবল সেঞ্চুরি’র পথে ঘাসফুল? কুণাল ঘোষ এই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে আরও দাবি করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দফাতেই ১০০-র গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছিল। আর দ্বিতীয় দফায় সেই সংখ্যা ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছেছে। বিরোধীদের এই তথাকথিত ‘গোপন নথি’র কথা সামনে এনে তৃণমূল শিবির বোঝাতে চাইছে যে, বিরোধী দলগুলি মুখে জয়ের দাবি করলেও ভেতরে ভেতরে তারা হারের কথা মেনে নিয়েছে।

তৃণমূলের আত্মবিশ্বাস বনাম বিরোধীদের ‘মিথ্যে’ তোপ কুণালের এই দাবি সামনে আসতেই তৃণমূলের অন্দরে খুশির হাওয়া। ঘাসফুল শিবিরের নেতাদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জোয়ারে বিরোধীরা খড়কুটোর মতো ভেসে যাবে— এটা তারা নিজেরাও জানে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই দাবিকে পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ভয়ের রাজনীতি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, ৪ মে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাবে বুঝেই কুণাল ঘোষ এমন কাল্পনিক নথির গল্প ফাঁদছেন।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাংলার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। সেখানে কুণাল ঘোষের দাবি করা ‘৭৮’ সংখ্যাটি যদি সত্যি হয়, তবে তৃণমূল ২০০-র অনেক বেশি আসন নিয়ে নবান্নে ফিরছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে এই নথির কথা ফাঁস করা কি নিছকই মনস্তাত্ত্বিক লড়াই, না কি সত্যিই তৃণমূলের হাতে এসেছে বিপক্ষ শিবিরের কোনও গোপন তথ্য?

আগামী ৪ মে ইভিএম বক্স খুললেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার দাবি কতটা সত্য। তবে ফল প্রকাশের ঠিক আগে কুণাল ঘোষের এই ‘বোমা’ যে বাংলার রাজনৈতিক পারদকে কয়েক ডিগ্রি চড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ডেইলিয়ান্ট-এর পাঠকদের জন্য আমরা নজর রাখব ৪ মে-র প্রতি মুহূর্তের আপডেটে।