নামেই সংঘর্ষবিরতি! লেবাননে ইজরায়েলি বোমাবর্ষণে নিথর ১২, যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী খেলায় ফিরল ধ্বংসলীলা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়লেও পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির বাতাবরণ যেন কেবলই সোনার পাথরবাটি। ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত কমার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে ঘটল উল্টো চিত্র। শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের জনপদে নতুন করে ইজরায়েলি বিমান হানায় প্রাণ হারালেন অন্তত ১২ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। আন্তর্জাতিক মহলের চোখরাঙানি উপেক্ষা করেই যেন চলছে এই মরণখেলা।

আকস্মিক হানা ও মৃত্যুমিছিল সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের হাব্বুশ ও জ্রারিয়ে এলাকায় বিধ্বংসী বিমান হামলা চালায় ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী (IDF)। হামলার আগে বেশ কিছু এলাকা খালি করার নির্দেশ দিলেও সাধারণ মানুষের রক্ষা মেলেনি। হাব্বুশ এলাকায় হামলায় আটজন প্রাণ হারিয়েছেন, যেখানে আহত হয়েছেন আরও ২১ জন। অন্যদিকে, জ্রারিয়েতে পৃথক এক হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে ইজরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ২,৬০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

ইজরায়েলের দাবি ও পাল্টা অভিযোগ ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, জঙ্গি সংগঠন হিজবুল্লা ইজরায়েলের অভ্যন্তরে বড়সড় হামলার ছক কষছিল। সেই গোপন ডেরার খবর পেয়েই আকাশপথে প্রতি আক্রমণ চালানো হয়। দিন তিনেক আগেও একই অজুহাতে লেবাননে হামলা চালিয়ে তিন হিজবুল্লা জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছিল আইডিএফ। তবে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের সমালোচনার মুখে পড়েছে তেল আবিব।

ট্রাম্পের দাবি ও বাস্তব চিত্র এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের অবসান ঘটেছে। গত ৭ এপ্রিল থেকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কোনো গোলাগুলি হয়নি বলে শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসকে চিঠি লিখে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, শুক্রবারই এই যুদ্ধের সময়সীমা শেষ হয়েছে এবং নতুন করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্পের এই ‘যুদ্ধ শেষ’ করার বার্তার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে বারুদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

অব্যাহত জটিলতা ও মধ্যস্থতার চেষ্টা যুদ্ধবিরতি বা চুক্তির কথা চললেও হরমুজ প্রণালী ঘিরে জটিলতা কাটেনি। ইরান ও আমেরিকার এই দীর্ঘস্থায়ী বিবাদে জল ঢালতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। তবে ইসলামাবাদের প্রথম দফার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে থাকলেও পর্দার আড়ালে উত্তেজনা বিন্দুমাত্র কমেনি।