ইরানকে রুখতে রণংদেহি মেজাজে ট্রাম্প! মধ্যপ্রাচ্যের ৪ দেশে ঢুকছে আমেরিকার ভয়ঙ্কর সব অস্ত্র, শুরু যুদ্ধের মহড়া?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক নতুন মোড় নিল। সশস্ত্র সংঘর্ষ আপাতত থামানো গেলেও দু’পক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধ ও সামরিক প্রস্তুতি যে তুঙ্গে, তার প্রমাণ মিলল মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের শক্তি বাড়াতে এবং বন্ধু দেশগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন প্রশাসনের মেগা ডিল সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তরফে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চারটি মিত্র দেশকে প্রায় ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে আমেরিকা। মার্কিন স্বরাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিও এই চুক্তিতে সবুজ সংকেত দিয়েছেন।
কী কী থাকছে অস্ত্রের তালিকায়? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের অস্ত্র তালিকায় এমন কিছু মারণাস্ত্র রয়েছে যা ওই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য হলো:
-
অত্যাধুনিক বিমান-প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র (Anti-Aircraft Missiles)
-
লেজার নির্দেশনাব্যবস্থা যুক্ত নিখুঁত নিশানার সামরিক অস্ত্র (Laser-Guided Systems)
-
উন্নত মানের রাডার এবং সার্ভেল্যান্স সরঞ্জাম
লক্ষ্য কি ইরান? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই নয়া চাল। মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক জোটকে আরও জোরদার করতেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সংঘাত কমানোর দাবি করলেও, বাস্তবে মিত্র দেশগুলোর সামরিক শক্তিবৃদ্ধি করে ইরানকে চাপে রাখার রণকৌশল নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার এই পদক্ষেপের পর তেহরানের প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই নজর বিশ্ব কূটনীতির। এই বিশাল অস্ত্র চুক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে বাধা হবে নাকি শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।