বুলডোজারের নিচে সাড়ে ৩ লাখের স্বপ্ন! দিল্লিতে যমুনা তীরে কান্নার রোল, কী ঘটল মঙ্গলবার ভোরে?

দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জের মদনপুর খাদার এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই চরম উত্তেজনা। দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ মেনে যমুনা নদীর তীরবর্তী পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল ও ওজোন-প্রবণ এলাকা থেকে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদ করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। যমুনা নদীকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করতেই এই মেগা উচ্ছেদ অভিযান বলে জানা গেছে।
ভোররাতেই রণক্ষেত্র চেহারা, নামল বুলডোজার
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে যাতে কোনওরকম আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, তার জন্য ভোররাত থেকেই গোটা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে একের পর এক বুলডোজার গর্জে ওঠে মদনপুর খাদারে। প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে নিমেষেই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় একের পর এক অবৈধ পাকা বাড়ি ও বস্তি।
“সময়টুকুও দেওয়া হলো না!”, কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাসিন্দারা
হঠাৎ এই উচ্ছেদ অভিযানে কার্যত দিশেহারা স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ঘর খালি করার জন্য প্রশাসন বিন্দুমাত্র পর্যাপ্ত সময় দেয়নি। অনেকের দাবি, মাত্র ১১ই জুন তাঁরা নোটিশ হাতে পেয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ বলছেন উচ্ছেদের দিনই তাঁদের নোটিশ ধরানো হয়েছে। চোখের সামনে নিজেদের তিল তিল করে গড়ে তোলা সংসার ভেঙে পড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন শত শত মানুষ। এলাকা জুড়ে তৈরি হয় এক চরম হাহাকার ও বিশৃঙ্খলা।
“সব শেষ হয়ে গেল!” — ৮৫ বছরের বৃদ্ধার আর্তনাদ
এই উচ্ছেদ অভিযানের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছবি হয়ে উঠেছেন ৮৫ বছর বয়সী আঙ্গুরি দেবী। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “জীবনের সবটুকু সঞ্চয় বিলিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিয়ে ১০০ গজের এই জমিটা কিনে ঘর বেঁধেছিলাম। আজ আমি গৃহহীন! আমাদের সঙ্গে এই অন্যায় কেন করা হলো?”
ভুয়ো দলিলের ফাঁদ ও একঝাঁক অনুত্তরিত প্রশ্ন
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি, তাঁরা জানতেনই না যে এই জমিটি আইনি বিবাদের আওতায় বা সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে পড়ে। ল্যান্ড মাফিয়া ও প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে ভুয়ো দলিলের মাধ্যমে তাঁরা এই জমি কিনেছিলেন। এখন মাথার ওপরের ছাদ হারিয়ে তাঁরা বুঝতে পারছেন যে তাঁরা কত বড় জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।
এই উচ্ছেদ অভিযান এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে প্রশাসনকে।
প্রথমত: যে ল্যান্ড মাফিয়ারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভুয়ো দলিল দিয়ে কোটি কোটি টাকার প্লট বিক্রি করল, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী কড়া ব্যবস্থা নেবে?
দ্বিতীয়ত: ঘর হারানো এই শত শত দরিদ্র মানুষের পুনর্বাসন ও বিকল্প আবাসন নিয়ে সরকার কী ভাবছে?