গণনাকেন্দ্রে বড় কারচুপির আ-কর্মীদের জন্য কড়া ‘লক্ষ্মণরেখা’ টানলেন মমতাশঙ্কা! রেজাল্টের দিন নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রুদ্ধশ্বাস বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ। এখন সবার নজর আগামী ২ মে-র ফলাফল ঘোষণার দিকে। বুধবার রাতের বুথফেরত সমীক্ষা বা এগজিট পোল নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে চর্চা তুঙ্গে, তখনই বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলীয় কর্মীদের চরম সতর্কবার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাফ জানিয়ে দিলেন, জয় নিয়ে তিনি নিশ্চিত, তবে গণনা প্রক্রিয়ায় কারচুপির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তিনি।
গণনাকেন্দ্রে কড়া নজরদারির নির্দেশ
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন, গণনা চলাকালীন ডেটা এন্ট্রির সময় জালিয়াতি হতে পারে। তিনি বলেন, “কাউন্টিং সেন্টার থেকে গণনা টেবিলে যাওয়ার সময় মেশিন বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওদের। টেবিলে যে গণনা হয়, সেটা কম্পিউটারে তোলার সময় আমাদের ফল বদলে ওদের খাতায় দিয়ে দেওয়া হতে পারে।”
কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং সুরক্ষাকবচ তৈরি করতে তিনি নির্দেশ দেন, “রেজাল্ট বেরনোর দিন আমি যতক্ষণ না সাংবাদিক সম্মেলন করব, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ কাউন্টিং সেন্টার ছেড়ে বেরোবেন না।” প্রয়োজনে প্রার্থীদের নিজেদের উপস্থিত থেকে স্ট্রং রুম এবং গণনাকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
‘আমরা ২২৬ পার করব’
বুথফেরত সমীক্ষার ফলাফল যাই বলুক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, “আমরা ২০২৬-এ ২২৬-এর বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরব।” কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “১৯টা রাজ্যের বিজেপি নেতাদের অর্থ, শক্তি আর বন্দুকের অত্যাচার সহ্য করে যারা ভোট দিয়েছেন, সেই সব সাধারণ মানুষ ও কর্মীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ওরা মহিলা ও শিশুদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, এমনকি সাংবাদিকদেরও রেহাই দেয়নি।”
কমিশনের পদক্ষেপ ও রি-পোল প্রসঙ্গ
অন্যদিকে, ভোট চলাকালীন বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির খবর পাওয়া গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, অশান্তি কবলিত এলাকাগুলোতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বুথে স্ক্রুটিনি বা খতিয়ে দেখার কাজ চলছে। প্রয়োজন পড়লে নির্দিষ্ট কিছু বুথে পুনরায় ভোটগ্রহণ বা রি-পোল হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। এখন দেখার, মমতার এই ‘পাহারা’ দেওয়ার ডাক এবং আত্মবিশ্বাস শেষ পর্যন্ত ইভিএম-এর বাক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটায়। আগামী কয়েক ঘণ্টা বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।