হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের জের? স্ত্রীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে প্রাণ দিলেন স্বামীও!

প্রেমের টানে ঘর বেঁধেছিলেন মাত্র আট মাস আগে। কিন্তু সেই সংসার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মুহূর্তের ভুলে। স্ত্রীর মৃত্যুর ঠিক দুদিন পরই নিজের জীবন শেষ করে দিলেন স্বামী। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, গত দুদিন আগে নলেজ পার্ক থানা এলাকার একটি হোস্টেলের তিনতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন পারুল নামে এক তরুণী। তিনি স্থানীয় একটি কলেজে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্বামী সৌরভের সঙ্গে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে কেন্দ্র করেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলে অভিযোগ। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার বিকেলে সুরজপুর থানা এলাকার গুরুদ্বার ওয়ালি গলিতে নিজের ভাড়া করা ঘরে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্বামী সৌরভের দেহ।

মানসিক অবসাদই কি কাল?
সুরজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিনোদ কুমার জানান, স্ত্রীর আত্মহত্যার পর থেকেই তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সৌরভ। ঘটনার দিন বিকেলেও তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন বলে জানা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সৌরভের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

তদন্তে পুলিশ
পুলিশ সূত্রে খবর, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট নিয়ে দম্পতির মধ্যে যে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল, তা-ই বড় আকার ধারণ করে এই মর্মান্তিক পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়। ময়নাতদন্তের পর সৌরভের দেহ তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা দেহ নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কি নিছক একটি পারিবারিক বিবাদ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে—সেই উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।