মাছ-মাংসও ফেল! নামমাত্র উপকরণে বাড়িতেই বানান সুস্বাদু ‘পটল পোস্ত’, চেটেপুটে খাবে বাড়ির সকলে!

বাজারে পোস্তর দাম শুনলে বর্তমানে কপালে ভাঁজ পড়ে সাধারণ মানুষের। সোনার দরের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে এই সাদা দানা। কিন্তু এই ভ্যাপসা গরমে বাঙালির পাতে একটু পোস্ত না হলে ঠিক জমে না। পোস্ত শুধু স্বাদ বাড়ায় না, পেট ঠান্ডা রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। তবে সবসময় আলু দিয়ে না খেয়ে, স্বাদে বদল আনতে বাড়িতে থাকা পটল দিয়েই বানিয়ে ফেলুন জিভে জল আনা ‘পটল পোস্ত’।

দুপুরবেলা গরম ভাতের সঙ্গে পটলের এই রাজকীয় পদটি থাকলে মাছ-মাংসের আর প্রয়োজন হবে না। খুব সামান্য কিছু উপকরণ দিয়ে ঝটপট কীভাবে এই পদটি তৈরি করবেন, দেখে নিন তার সহজ রেসিপি।

উপকরণ:
পটলের এই জিভে জল আনা পদ তৈরি করতে আপনার লাগবে:

পটল: ৪-৫টি (মাঝারি মাপের)

পোস্ত বাটা: আধ কাপ

কাজু বাদাম: ৭-৮টি (স্বাদ বাড়াতে)

কাঁচালঙ্কা: ৩-৪টি (ঝাল অনুযায়ী)

সর্ষের তেল: ৩ টেবিল চামচ

হলুদ গুঁড়ো: সামান্য

নুন ও চিনি: স্বাদমতো

প্রস্তুত প্রণালী:
১. পটলের প্রস্তুতি: প্রথমে পটলের খোসা ভালো করে ছাড়িয়ে মাঝখান থেকে দু’ভাগ করে নিন। এরপর সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে পটলগুলো মিনিট দশেক রেখে দিন।
২. বাটা মশলা: রান্নার প্রধান স্বাদ লুকিয়ে আছে মশলায়। মিক্সিতে পোস্ত, কাঁচালঙ্কা এবং কাজু বাদাম সামান্য জল দিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করে নিন। কাজু বাদাম ব্যবহার করলে গ্রেভি যেমন ঘন হয়, তেমনই স্বাদ বাড়ে কয়েক গুণ।
৩. ভাজাভুজি: কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে নুন-হলুদ মাখানো পটলগুলো লালচে করে ভেজে তুলে রাখুন।
৪. কষানো: পটলের অবশিষ্ট তেলেই পোস্ত ও কাজু বাটা দিয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে মিনিট পাঁচেক কষাতে থাকুন। মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করলে সামান্য গরম জল যোগ করুন।
৫. ফাইনাল টাচ: ঝোল ফুটে উঠলে তাতে নুন ও চিনি দিয়ে দিন। এবার আগে থেকে ভেজে রাখা পটলগুলো মশলায় দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। পটল পুরোপুরি সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। মশলা শুকিয়ে মাখোমাখো হয়ে এলে উপর থেকে কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু ‘পটল পোস্ত’। গরম ভাতের প্রথম পাতে এক চামচ ঘি আর এই পটল পোস্ত থাকলে দুপুরের খাওয়াটা হবে একেবারে স্মরণীয়। আজই ট্রাই করুন আপনার রান্নাঘরে!