“বুথ ফেরত সমীক্ষায় ‘বিজেপি লিড’ ভুল”-বাংলায় সবুজ ঝড় ওঠার দাবি করলো তৃণমূল

২০২৬-এর বাংলা কি পরিবর্তনের সাক্ষী থাকবে, না কি মসনদ ধরে রাখবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ৪ মে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার আগেই বুথফেরত সমীক্ষা বা এগজিট পোলের কাঁটাছেঁড়ায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। একাধিক সমীক্ষায় এবার বাংলায় বিজেপি-র জয়ের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, সেই দাবিকে স্রেফ ‘উড়িয়ে’ দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তৃণমূলের পাল্টা চ্যালেঞ্জ— ‘বাস্তব ফল হবে একতরফা’।
এগজিট পোলকে তুলোধোনা ডেরেকের
একাধিক বুথফেরত সমীক্ষায় বিজেপি-কে এগিয়ে রাখা হতেই সরব হয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সমাজমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি সরাসরি এই সমীক্ষাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একটি স্লাইড শেয়ার করে তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২১-এর নির্বাচনেও অনেক সংস্থা বিজেপি-কে ১৪৭টি পর্যন্ত আসন দেওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তৃণমূল ২১৫টি আসন জিতে ক্ষমতায় ফিরেছিল এবং বিজেপি থমকে গিয়েছিল মাত্র ৭৭-এ। ডেরেকের প্রশ্ন, “২০২১-এর সেই চরম ভুল অনুমানের পর এই এগজিট পোলের গুরুত্ব কোথায়?”
‘বাংলার রায় সবসময় স্পষ্ট’: দাবি সাকেত গোখলের
তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলের মতে, বাংলায় এগজিট পোল সাধারণত ‘ক্লোজ কনটেস্ট’ বা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখায়, কিন্তু বাংলার মানুষ যখন ভোট দেন, তখন সেই রায় হয় পাহাড়প্রমাণ ব্যবধানের। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, “রেকর্ডে বলছি, ৪ মে তৃণমূল কংগ্রেসই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে।”
সমীক্ষায় দ্বিধাবিভক্ত বিশেষজ্ঞরা: এক নজরে পরিসংখ্যান
পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্য বলছে:
| সমীক্ষক সংস্থা | তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) | বিজেপি (BJP) | বাম-কংগ্রেস |
| ম্যাট্রিজ | ১২৫ – ১৪০ | ১৪৬ – ১৬১ | – |
| পি-মার্ক | ১১৮ – ১৩৮ | ১৫০ – ১৭৫ | – |
| পোল ডায়েরি | ৯৯ – ১২৭ | ১৪২ – ১৭১ | ৩ – ৫ |
| পিপলস পালস | ১৭৭ – ১৮৭ | ৯৫ – ১১০ | ১ – ৪ |
| জনমত | ১৯৫ – ২০৫ | ৮০ – ৯০ | ১ – ৩ |
পদ্ম না কি জোড়াফুল— পাল্লা কোন দিকে?
ম্যাট্রিজ এবং পি-মার্কের মতো সংস্থাগুলি বিজেপি-র জয়ের পূর্বাভাস দিলেও, ‘পিপলস পালস’ এবং ‘জনমত’-এর দাবি— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই স্বচ্ছন্দ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবান্নে ফিরছেন। বিজেপি শিবিরের আশা, এবার মেরুকরণ এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া তাদের বৈতরণী পার করে দেবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের ভরসা তাদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সহ জনমুখী প্রকল্প এবং নেত্রীর ব্যক্তিগত ক্যারিশ্মা।
বুথফেরত সমীক্ষার এই রঙিন ফানুস শেষ পর্যন্ত ৪ মে বাস্তবের মাটিতে টেকে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ। বাংলার ভাগ্য নির্ধারণে ‘সাইলেন্ট ভোটার’রাই কি তবে তুরুপের তাস হতে চলেছেন? উত্তর মিলবে মঙ্গলবার।