বৈশাখী তাণ্ডবে কাঁপছে বাংলা! এক রাতে ৬ ডিগ্রি নামল পারদ, রবিবারের আগে থামবে কি এই অকাল বর্ষণ?

কাঠফাটা রোদের বদলে বৈশাখের শেষবেলা কাটছে দুর্যোগের মেঘে। বুধবার রাতভর যে তাণ্ডব চালালো প্রকৃতি, তাতে কার্যত লণ্ডভণ্ড কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, গত রাতেই রেকর্ড ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে তিলোত্তমায়। যার জেরে একধাক্কায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস নিচে নেমে গিয়েছে রাতের তাপমাত্রা। তবে এখানেই শেষ নয়, ৩ মে অর্থাৎ রবিবারের আগে স্বস্তির বদলে বড় বিপদের পূর্বাভাস দিচ্ছে আলিপুর।
রেকর্ড বৃষ্টি ও তাপমাত্রার পতন
বুধবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এই বৃষ্টির দাপটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই কমে ২০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের রেকর্ডে বৈশাখ মাসে এমন পারদ পতন এবং বৃষ্টির পরিমাণ বিরল বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
মে মাসের শুরুতেই ভারী বৃষ্টির চোখরাঙানি
আগামী ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। তার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ ৩ মে পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিসের মতে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলায় জেলায় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি
আজ বৃহস্পতিবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দুর্যোগ বাড়ার সম্ভাবনা। আবহাওয়া দফতরের বিশেষ আপডেটগুলি হলো:
ভারী বৃষ্টি: পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে।
কালবৈশাখী: কলকাতা-সহ বাকি জেলাগুলোতে কালবৈশাখীর দাপট দেখা যাবে। ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
শিলাবৃষ্টি: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর এবং দুই বর্ধমানে বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাত: অতিরিক্ত বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ায় মানুষকে খোলা আকাশের নিচে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার পর্যন্ত দুর্যোগ কাটবে না
শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং দুই ২৪ পরগনায় ঝড়ের বেগ ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটারে পৌঁছাতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়ার ফলে নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চারের কারণেই এই অস্থিরতা। ৩ মে-র পর থেকে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তার আগে ভিজে বৈশাখেই নাজেহাল হতে হবে বঙ্গবাসীকে।