পুনেতে মাঝরাতে ভয়াবহ গ্যাস লিক! হু হু করে ছড়ালো বিষাক্ত ক্লোরিন, হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ২২ জন বাসিন্দা

গভীর রাতে যখন শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই নিঃশব্দ ঘাতকের মতো ছড়িয়ে পড়ল বিষাক্ত গ্যাস। বুধবার মাঝরাতে পুনের কোন্ধওয়া সংলগ্ন গঙ্গাধাম এলাকায় একটি পরিত্যক্ত জল পরিশোধন কেন্দ্রের গুদাম থেকে ক্লোরিন গ্যাস লিক করে ভয়াবহ বিপত্তি ঘটল। এই ঘটনায় শ্বাসকষ্ট ও বিষক্রিয়ার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ জন স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের উদ্ধার করতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই দমকলকর্মীও।

রাত ১টায় ত্রাহি ত্রাহি রব
দমকল দফতর সূত্রে খবর, রাত আনুমানিক ১টা নাগাদ গঙ্গাধাম এলাকার ওই পরিত্যক্ত জল পরিশোধন কেন্দ্রের গুদামে রাখা একটি পুরনো ক্লোরিন ভর্তি ট্যাঙ্ক থেকে গ্যাস লিক হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ঝাঁঝালো গন্ধে ভরে যায় চারপাশ। বাসিন্দারা ঘুমন্ত অবস্থাতেই শ্বাসকষ্ট অনুভব করতে শুরু করেন এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই আধিকারিক দেবেন্দ্র পটফোডের নেতৃত্বে দমকলের ৫টি দল এবং প্রায় ৩০ জন কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

অযত্নে পড়ে থাকা ট্যাঙ্কই কাল হলো!
প্রাথমিক তদন্তে দমকল আধিকারিকদের অনুমান, ওই পরিত্যক্ত ইউনিটটি আগে দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি সেটি খুলে ফেলার পর ক্লোরিন ট্যাঙ্কটি অসংরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘদিনের অযত্নে ট্যাঙ্কে ফুটো হয়ে যায় এবং সেখান থেকেই বিষাক্ত ক্লোরিন গ্যাস চুঁইয়ে বের হতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকে শ্বাসযন্ত্র (BA set) সজ্জিত বিশেষ গাড়ি এবং চারটি ফায়ার টেন্ডার নামাতে হয়।

হাসপাতালে ভর্তি ২৪ জন
উদ্ধারকাজ চলাকালীন গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ২২ জন এলাকাবাসী। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে পুনের সাসুন জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পাশাপাশি, বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে গ্যাসের কবলে পড়েন দুই দমকলকর্মীও। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, বর্তমানে আক্রান্তরা স্থিতিশীল এবং তাঁদের কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দমকল বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, “গ্যাস লিক হওয়ার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত এলাকাটি খালি করে দিই। বর্তমানে ক্লোরিন ট্যাঙ্কের লিক মেরামত করা সম্ভব হয়েছে এবং বিপদমুক্ত করা হয়েছে এলাকাটিকে।” তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন অসংরক্ষিত অবস্থায় বিষাক্ত গ্যাস রাখার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।