ভোট মিটতেই সব ‘ম্যাজিক’! জামিন পেলেন আইপ্যাক ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল, ইডি-র হঠাৎ নরম মনোভাব নিয়ে তোলপাড়!

দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক। আবগারি বা কয়লা পাচার নয়, ৫০ কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন বা হাওলা মামলায় গ্রেফতার হওয়া আইপ্যাক (IPAC)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল জামিন পেলেন। আজ দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্ট থেকে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হয়। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, গত ১০ দিন আগে যে ইডি (ED) ভিনেশকে ‘প্রমাণ লোপাটকারী’ বলে দাগিয়ে দিয়েছিল, আজ সেই কেন্দ্রীয় সংস্থাই তাঁর জামিনের আবেদনের কোনও বিরোধিতা করেনি।
ভোট মিটতেই সুরবদল ইডি-র?
গত ১৩ এপ্রিল হাওলা মারফত বিপুল অঙ্কের বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে দিল্লি থেকে ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় তদন্তকারীরা দাবি করেছিলেন, ভিনেশ বাইরে থাকলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করতে পারেন। এমনকি তিনি বেশ কিছু ইমেল ডিলিট করেছেন এবং ল্যাপটপ থেকে ফুটেজ গায়েব করেছেন বলেও অভিযোগ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ১০ দিনের হেফাজতেও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোট মিটে যাওয়ার ঠিক পরের দিনই ইডি-র এই নমনীয় মনোভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ
গ্রেফতার হওয়ার সময় থেকেই ভিনেশ চান্ডেল দাবি করেছিলেন, তাঁকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ফাঁসানো হচ্ছে। বাংলায় নির্বাচন বলেই তাঁকে আটকে রাখার চক্রান্ত চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন। আজ জামিন পাওয়ার পর সেই বিতর্ক নতুন করে উস্কে গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, ১০ দিন আগে যে অভিযুক্তকে প্রভাবশালী ও ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছিল, ভোট মিটতেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণের অভাব বা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ইডি-র নীরবতার কারণ কী?
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আগামী পদক্ষেপ
কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার সূত্র ধরে দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছিল, যার ভিত্তিতে ইডি তদন্ত শুরু করে। ভিনেশের অফিস ও বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু ক্যাশ মেমো ও সন্দেহজনক বিলও উদ্ধার করা হয়েছিল বলে আগে জানানো হয়েছিল। এই একই মামলায় প্রতীক জৈন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার, ভিনেশ চান্ডেলের জামিন পাওয়ার পর ইডি বাকি অভিযুক্তদের নিয়ে কী পদক্ষেপ করে।
আপাতত ভিনেশ চান্ডেলের এই মুক্তি কেবল একটি আইনি জয় নয়, বরং বাংলার নির্বাচনী আবহে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। ভোট মিটতেই ইডি-র বিরোধিতার পথে না হাঁটা কি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে।