যোগী ম্যাজিক! ‘বিমারু’ তকমা ঘুচিয়ে রেকর্ড গতির এক্সপ্রেসওয়ে, উত্তরপ্রদেশের এই ‘কমপ্লিট প্যাকেজ মডেল’ চমকে দিচ্ছে বিশ্বকে

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ আজ এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। উন্নয়ন মানেই যে কেবল বড় বড় প্রকল্পের ঘোষণা নয়, বরং সেই কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া— তা গত ৯ বছরে প্রমাণ করে দিয়েছে যোগী সরকার। উত্তরপ্রদেশ এখন একটি ‘কমপ্লিট প্যাকেজ মডেল’-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রকল্পের শিলান্যাস থেকে উদ্বোধন পর্যন্ত চলে কঠোর নজরদারি।

রেকর্ড গতির এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক
দেশের মোট এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের প্রায় ৬০ শতাংশ অংশীদারিত্ব এখন একাই উত্তরপ্রদেশের। এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হলো গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। ৫৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশালাকার প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছিল ১৮ ডিসেম্বর ২০২১-এ এবং গতকাল, ২৯ এপ্রিল ২০২৬-এ এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটি চালু হলে ২ ঘণ্টার যাত্রা পথ কমে দাঁড়াবে মাত্র ৪৫ মিনিটে। এছাড়াও পূর্বাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড এবং গোরখপুর লিঙ্ক এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে রাজ্যের প্রান্তিক এলাকাগুলিকে মূল অর্থনীতির স্রোতে যুক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আকাশপথে নয়া রেকর্ড: ৫টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে মূলত লখনউ এবং বারাণসী বিমানবন্দর দুটিই সক্রিয় ছিল। আজ ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। যোগী সরকারের দূরদৃষ্টির কারণে উত্তরপ্রদেশ দেশের প্রথম রাজ্য যেখানে ৫টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।

জেবর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর: ২৮ মার্চ ২০২৬-এ এর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করা হয়েছে।

অযোধ্যা বিমানবন্দর: ২০২২ সালে কাজ শুরু হয়ে মাত্র দেড় বছরের মাথায় ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন হয়েছে মহর্ষি বাল্মীকি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬-১৭ সালে যেখানে ৬০ লক্ষ মানুষ আকাশপথে যাতায়াত করতেন, ২০২৪-২৫ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ কোটিরও বেশি।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘হার্ড পাওয়ার’ ভিশন
উত্তরপ্রদেশ এখন কেবল কৃষি বা পর্যটনে সীমাবদ্ধ নেই, দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। লখনউতে ব্রহ্মোস মিসাইল প্রোডাকশন ইউনিটের কাজ শুরু হয়েছে। কানপুরে আদানি ডিফেন্সের অধীনে গোলা-বারুদ তৈরির প্ল্যান্ট গত ফেব্রুয়ারি থেকেই চালু হয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ এক শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে উঠে আসছে।

শহরে শহরে মেট্রো ও র‍্যাপিড রেল
পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে আগ্রা ও মীরাট মেট্রোর পর এবার বারাণসী, গোরখপুর ও প্রয়াগরাজেও মেট্রো পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আগ্রা মেট্রো ও মীরাট মেট্রো ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

সাফল্যের আসল কারণ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগী সরকারের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর ‘মনিটরিং’ এবং প্রযুক্তির ব্যবহার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। আধিকারিকদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি কাজে গাফিলতি হলে কড়া শাস্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ‘বিমারু’ রাজ্যের তকমা ঝেড়ে ফেলে উত্তরপ্রদেশ এখন ভারতের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার পথে।