হাত-পা কাঁপছে? চা খেতে গিয়ে চলকে পড়ছে জল? ব্রেন টিউমার নয়, শরীরের এই ‘ভয়ঙ্কর’ অভাব নেই তো!

সই করতে গিয়ে দেখলেন কলমটা সামান্য বেঁকে যাচ্ছে। চায়ের কাপ নামাতে গিয়ে চলকে পড়ল অর্ধেকটা। কিংবা মোবাইলে টাইপ করতে গিয়ে আঙুল চলে যাচ্ছে ভুল বোতামে। মাথায় প্রথম চিন্তাই আসে— “আমার কি তবে পারকিনসন হলো? না কি ব্রেন টিউমার?”
চিকিৎসকরা বলছেন, প্যানিক করবেন না। হাত-পা কাঁপা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্রেমর’-এর ১০০টি কারণ থাকতে পারে, যার মধ্যে ৯০ শতাংশই প্রাণঘাতী নয়। আসলে আপনার শরীর হয়তো জানান দিচ্ছে তার কিছু জরুরি উপাদানের ঘাটতি হয়েছে। জেনে নিন হাত কাঁপার আসল ‘ভিলেন’ কারা।
১. ভিটামিন B12-এর অভাব (সবচেয়ে সাধারণ কারণ)
প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে হাত কাঁপার মূল কারণ ভিটামিন B12-এর ঘাটতি। এই ভিটামিন স্নায়ুর ওপরের সুরক্ষাকবচ (মায়োলিন শিথ) তৈরি করে। এর অভাবে স্নায়ুতে ‘শর্ট সার্কিট’ হয়। হাত-পা ঝিনঝিন করা, অবশ ভাব বা কাঁপুনি এর লক্ষণ। নিরামিষাশী, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া ব্যক্তি এবং মদ্যপায়ীদের এই সমস্যা বেশি হয়।
২. থাইরয়েড ও লো সুগার
শরীরে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে মেটাবলিজম রকেটের গতিতে চলে, ফলে হাত কাঁপে। আবার যারা সময়ে খান না বা ডায়েট করেন, তাঁদের সুগার ৭০-এর নিচে নেমে গেলে ব্রেন গ্লুকোজ পায় না, ফলে হাত-পা কাঁপতে শুরু করে। মিষ্টি কিছু খেলে যা ৫ মিনিটেই ঠিক হয়ে যায়।
৩. পারকিনসন না কি এসেনশিয়াল ট্রেমর?
এসেনশিয়াল ট্রেমর: এটি বংশগত এবং বিপজ্জনক নয়। জল খাওয়া বা লেখার মতো কাজ করতে গেলে হাত কাঁপে, কিন্তু বিশ্রাম নিলে ঠিক হয়ে যায়।
পারকিনসন: এটি স্নায়ুর জটিল রোগ। এখানে বিশ্রাম নিলেও হাত বা আঙুল কাঁপতে থাকে (পিল রোলিং)। এর সাথে হাঁটার গতি কমে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।
৩০ সেকেন্ডের ৩টি সহজ ঘরোয়া টেস্ট
আপনার কাঁপুনি কোন পর্যায়ের, তা বুঝতে এই পরীক্ষাগুলো করে দেখতে পারেন:
কাগজ টেস্ট: হাত সোজা করে মেলে ধরুন, ওপর একটি A4 কাগজ রাখুন। কাগজ কাঁপলে বুঝবেন এটি থাইরয়েড বা টেনশনজনিত সমস্যা।
জল খাওয়ার টেস্ট: গ্লাসে জল খাওয়ার সময় কাঁপুনি বাড়লে সেটি এসেনশিয়াল ট্রেমর। কোলে হাত রেখে বসা অবস্থায় কাঁপলে সেটি পারকিনসনের লক্ষণ হতে পারে।
টাইমিং: সকালে খালি পেটে বেশি কাঁপলে বুঝবেন শরীরে সুগার বা ভিটামিনের অভাব রয়েছে।
কী করবেন? কখন যাবেন চিকিৎসকের কাছে?
শরীরে ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের অভাব থাকলেও মাসল ক্র্যাম্প বা চোখের পাতা ফড়ফড় করতে পারে। এর জন্য ডায়েটে কলা, পালং শাক, ডিম ও দুধ রাখা জরুরি। সেই সঙ্গে চা-কফি বা ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় কমিয়ে দিন।
সাবধান: যদি ৫০ বছর বয়সের পর হঠাৎ কাঁপুনি শুরু হয়, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন কিংবা কথা জড়িয়ে যায়— তবে দেরি না করে আজই নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, গুগল করে ভয় পাওয়ার চেয়ে রক্ত পরীক্ষা (B12, TSH, RBS) করিয়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করাই বুদ্ধিমানের কাজ। ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক ডায়েট আর ভিটামিনেই এই সমস্যা সেরে যায়।