“তারাই ভ্যানিশ হওয়ার পথে!” জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষের পাল্টা দিলেন দিলীপ, শোরগোল রাজ্যে!

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই সরগরম বঙ্গ রাজনীতি। একদিকে যখন রাজ্যে ভোটদানের হার রেকর্ড গড়েছে, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তৃণমূলের ‘ভ্যানিশ কুমার’ কটাক্ষের পাল্টা দিয়ে দিলীপের দাবি, এবার শাসক দল নিজেই ‘ভ্যানিশ’ হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

“যারা ভ্যানিশ বলেছিল, তারাই ভ্যানিশ হবে”
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে টার্গেট করে অতীতে বারবার আক্রমণ চালিয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনেই দিলীপ ঘোষ বলেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে যারা ভ্যানিশ কুমার বলেছিল, আজ তারাই ভ্যানিশ হওয়ার পথে। উনি দুই দফায় ভোট করানোর যে বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন, তা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। শান্তিপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ভোট করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে প্রশাসন চাইলে সব পারে।”

বদলেছে পুলিশের শরীরী ভাষা!
এবারের নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দিলীপ ঘোষের গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর। সাধারণত পুলিশের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই বিজেপি নেতা এদিন কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রশংসা করে বলেন, “শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, এবার রাজ্যের পুলিশের শরীরী ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজও বদলে গিয়েছে। পুলিশ আসলে কাজ করার সুযোগ চাইছে। যখনই পুলিশের আচরণ এমন ইতিবাচক হয়, তখনই বোঝা যায় পরিবর্তন আসন্ন।”

তৃণমূলকে ধারালো আক্রমণ
শাসক দলকে বিঁধে দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক মন্তব্য, “১৫ বছর রাজত্ব করার পর তৃণমূলের হাতে এবার আর কোনও ইস্যু নেই। ওরা শুরু থেকেই কমিশনারকে কালো পতাকা দেখানো বা গো-ব্যাক স্লোগান দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু জ্ঞানেশ কুমার নড়েননি।” ভোটারদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, “বাঙালির ঘিলু শুকিয়ে যায়নি যে তারা আবার তৃণমূলকে ভোট দেবে।”

কমিশনের ‘ফুল মার্কস’ জয়
২০২৬-এর নির্বাচনে কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটারদের বুথমুখী করা। ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে মানুষের মনে আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল কমিশন। দুই দফা শেষে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদান এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য কমিশনকে এখন ‘ফুল মার্কস’ দিচ্ছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ, যার প্রতিফলন মিলল দিলীপ ঘোষের কথাতেও।

ভোটের ফল ৪ মে, তবে তার আগেই দিলীপ ঘোষের এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য এবং পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।