লাল টকটকে তরমুজ দেখেই কিনবেন না! এক টুকরো টিস্যু পেপারেই ফাঁস হবে ব্যবসায়ীদের ভয়ঙ্কর কারসাজি!

গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে এক ফালি ঠান্ডা ও রসালো তরমুজের তৃপ্তি অতুলনীয়। কিন্তু বাজারের চাহিদা মেটাতে একদল অসাধু ব্যবসায়ী এখন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। তরমুজকে অকালপক্ব করতে এবং ভেতরটা কৃত্রিমভাবে লাল দেখাতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক ইনজেকশন। এই বিষ আপনার অজান্তেই শরীরে দানা বাঁধতে পারে মরণব্যাধি। তবে দুশ্চিন্তার কারণ নেই, পেশাদারদের মতো কয়েকটি সহজ পরীক্ষায় আপনি নিজেই ধরে ফেলতে পারবেন বিষাক্ত তরমুজ।
১. টিস্যু পেপার পরীক্ষা: সবথেকে সহজ উপায়
তরমুজটি কাটার পর এক টুকরো লাল অংশ নিন। এবার একটি পরিষ্কার সাদা টিস্যু পেপার নিয়ে ওই লাল অংশের ওপর আলতো করে চেপে ধরুন। যদি টিস্যু পেপারের রঙ গাঢ় লাল বা কমলা হয়ে যায়, তবে নিশ্চিত থাকুন এতে ‘ইরিথ্রোসিন’-এর মতো কৃত্রিম রঙ মেশানো হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা তরমুজে কেবল জলীয় ভাব থাকবে, টিস্যু পেপারে কোনও কড়া রঙের ছাপ লাগবে না।
২. জলের গ্লাসে গোপন রহস্য
তরমুজের ছোট একটি টুকরো এক গ্লাস সাধারণ জলের মধ্যে ফেলে দিন। মাত্র ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। যদি জলটি ধীরে ধীরে লাল হতে শুরু করে, তবে বুঝবেন এতে রঙের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে। কারণ, কৃত্রিম রাসায়নিক রঙ জলে দ্রুত মিশে যায়, কিন্তু প্রাকৃতিক রঙের তরমুজে জল সহজে রঙিন হয় না।
৩. বাইরের হলুদ ছোপ ও বীজের রঙ লক্ষ্য করুন
কেনার সময় তরমুজের গায়ের দিকে ভালো করে নজর দিন। যদি তরমুজের গায়ে বড় হলুদ রঙের ছোপ থাকে, তবে বুঝবেন সেটি প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে থেকে পেকেছে। পুরো তরমুজ যদি অস্বাভাবিক গাঢ় সবুজ ও দাগহীন হয়, তবে তা রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
পাশাপাশি, কাটার পর যদি দেখেন তরমুজ ভিতর থেকে টকটকে লাল কিন্তু বীজগুলো একদম সাদা বা অপরিণত, তবে সতর্ক হোন। প্রাকৃতিকভাবে পাকা তরমুজের বীজ সবসময় কালো বা কালচে খয়েরি রঙের হয়ে থাকে।
শেষ পরামর্শ:
তরমুজের খোসায় কোনও অস্বাভাবিক ছোট ছিদ্র বা কোনও নির্দিষ্ট জায়গা খুব বেশি নরম মনে হলে তা কেনা থেকে বিরত থাকুন। অনেক সময় সেই ছিদ্র দিয়েই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে রঙ ঢোকানো হয়। সুস্থ থাকতে সজাগ চোখের নজরদারির কোনও বিকল্প নেই। সচেতন হোন এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন।