ভোরে কেঁপে উঠল লাদাখ! ঘুমের মধ্যেই কি বড় বিপদের সংকেত? জানুন ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির রিপোর্ট!

যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন পাহাড়, ঠিক তখনই হঠাৎ কেঁপে উঠল মাটি। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়াল লাদাখের লেহ অঞ্চলে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.১। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
কখন ও কোথায় ছিল উৎসস্থল?
এনসিএস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ৫৪ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড নাগাদ এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল লাদাখের লেহ। সংস্থাটির অফিসিয়াল এক্স (X) হ্যান্ডেলে জানানো হয়েছে, ভূ-পৃষ্ঠের অক্ষাংশ ৩৬.৭২২ উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৭৪.৪৫৬ পূর্বে ছিল এর অবস্থান।
মাঝারি মাত্রার গভীরতা: কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ভূমিকম্পের তীব্রতার চেয়েও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এর গভীরতা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (USGS)-এর মাপকাঠি অনুযায়ী, ভূমিকম্পের গভীরতাকে সাধারণত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়:
মৃদু (Shallow): ০ থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীরতা।
মাঝারি (Intermediate): ৭০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গভীরতা।
গভীর (Deep): ৩০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার গভীরতা।
লাদাখের এই ভূমিকম্পটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছিল। সেই হিসেবে বিশেষজ্ঞরা একে ‘ইন্টারমিডিয়েট’ বা মাঝারি পর্যায়ের গভীরতার ভূমিকম্প হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সাধারণত উৎপত্তিস্থল যত গভীরে হয়, ভূ-পৃষ্ঠে তার ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব ততটাই কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বর্তমান পরিস্থিতি
যদিও রিখটার স্কেলে ৪.১ মাত্রা খুব একটা বিধ্বংসী নয়, তবে পাহাড়ি এলাকায় এমন কম্পন বাসিন্দাদের মধ্যে যথেষ্ট ভীতি তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কোনো প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে ক্ষয়ক্ষতির খবর আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে গত কয়েক বছরে বারবার ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হওয়ায় ভূতাত্ত্বিকরা হিমালয়ের প্লেটের নড়াচড়া নিয়ে চিন্তিত। আপাতত আতঙ্কিত না হয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।