“নাচ পারো না, নায়িকা হতে এসেছ কেন?” মাঝপথে মাইক ছুঁড়ে অপমান! প্রিয়াঙ্কার ক্যারিয়ারের সেই ভয়ানক দিন!

আজ তিনি লস অ্যাঞ্জেলসের প্রাসাদে রাজত্ব করেন। হলিউড থেকে বলিউড—সব তাঁর হাতের মুঠোয়। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার (Priyanka Chopra) এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের পথটা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। স্বজনপোষণ বা নেপোটিজমের কাঁটা সরিয়ে আজকের ‘গ্লোবাল আইকন’ হয়ে ওঠার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বুক যন্ত্রণা আর একার লড়াইয়ের ইতিহাস। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফেলে আসা কঠিন দিনগুলোর কথা শেয়ার করেছেন পিগি চপস।
ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ ছিল না পাশে
১৯-২০ বছর বয়সে যখন মিস ওয়ার্ল্ডের মুকুট মাথায় নিয়ে বলিউডে পা রাখেন প্রিয়াঙ্কা, তখন তিনি ছিলেন নেহাতই এক ‘আউটসাইডার’। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “পেশার শুরুতে আমার হয়ে কথা বলার মতো কেউ ছিল না। আমি জানতাম, কেউ আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে না। এই নিষ্ঠুর ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে আমাকে খুব দ্রুত সবটা শিখতে হতো।” কোনো গডফাদার ছাড়াই প্রতি পদে একা লড়ে আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন তিনি।
যখন শ্যুটিং সেটে মাইক ছুঁড়ে মারা হয়েছিল
আজ পর্দায় প্রিয়াঙ্কার নাচে মুগ্ধ হয় গোটা বিশ্ব। কিন্তু কেরিয়ারের শুরুর দিকে এই নাচই ছিল তাঁর সবথেকে বড় দুর্বলতা। দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ছবির শ্যুটিং চলাকালীন ঘটে এক অপ্রীতিকর ঘটনা। প্রখ্যাত কোরিওগ্রাফার রাজু খানের নির্দেশ মতো নাচের মুদ্রা মেলাতে বারবার ভুল করছিলেন প্রিয়াঙ্কা।
তাতে ধৈর্য হারান কোরিওগ্রাফার। রাগের মাথায় প্রিয়াঙ্কার দিকে মাইক ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তিনি চিৎকার করে বলেছিলেন, “পেজেন্ট জিতে আসতে পারো, কিন্তু নায়িকা হওয়ার আগে নাচটা শিখে এসো।” সেই দিনের সেই অপমান সেদিন প্রিয়াঙ্কাকে ভেঙে চুরমার করে দিলেও, আসলে সেটিই ছিল তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। ওই জেদ থেকেই নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছিলেন তিনি। আজ অবশ্য রাজু খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর।
হলিউড যাত্রায় নেই কোনো ইগো
বলিউডের সুপারস্টার হওয়ার পর যখন হলিউডে পা রাখেন, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো সেখানে ‘বিশেষ খাতির’ আশা করবেন। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এক দেশের নাম অন্য দেশে গিয়ে ভাঙিয়ে খাওয়ার পক্ষপাতী তিনি নন। তাঁর মতে, দর্শক আর সম্মান—দুটোই নিজের কাজ দিয়ে অর্জন করতে হয়। কোনোটিই জোর করে দাবি করা যায় না।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া প্রমাণ করে দিয়েছেন, নিজের জেদ আর পরিশ্রম থাকলে আকাশ ছোঁয়া অসম্ভব নয়। কোনো বড় পরিবারের তকমা নয়, বরং অপমানকে সিঁড়ি করেই আজ তিনি সাফল্যের শিখরে। তাঁর এই লড়াই আজও কয়েক লক্ষ তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা।