আকাশছোঁয়া লোকসানে এয়ার ইন্ডিয়া! বাতিল হচ্ছে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট, বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী

ঋণের বোঝা আর আকাশছোঁয়া লোকসানের চাপে পিষ্ট এয়ার ইন্ডিয়া এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। জানা গিয়েছে, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনছে এই বিমান সংস্থা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জেট ফুয়েলের (ATF) লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কেন এই ফ্লাইট বিপর্যয়?
এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্যাম্পবেল উইলসন কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে অনেক দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে বিমানগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনই অনেক রুট পুরোপুরি অলাভজনক হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির জটিলতা বিচার করে জুন ও জুলাই মাসের ফ্লাইটের সূচি আরও সংকুচিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশাল লোকসানের অংক:
সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ শেষ হতে চলা অর্থবর্ষে এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপের মোট লোকসানের পরিমাণ ২২,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই মূলত অলাভজনক রুটগুলো থেকে আপাতত পিছু হঠছে সংস্থাটি। সিইও উইলসন জানিয়েছেন, “গ্রাহকদের এই অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।”

জেট ফুয়েলের জ্বালায় নাজেহাল এভিয়েশন:
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল সংস্থা আইওসিএল (IOCL) আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ১লা মে থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। দিল্লিতে প্রতি কিলোলিটারে এটিএফ-এর দাম ৫.৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫১১.৮৬ মার্কিন ডলারে। এই নিয়ে টানা দু’মাস জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, যা কার্যত বাতাসের গতিতে বাড়ছে এভিয়েশন সেক্টরের সংকটকে।

যাত্রীদের ভোগান্তি:
ফ্লাইট সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে যারা জুলাই মাসে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের বড়সড় বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে। টিকিটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিলের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশেষজ্ঞরা। এয়ার ইন্ডিয়া আশা করছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে গেলে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হলে তারা আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবে।