বাংলায় কি তবে বড়সড় ওলটপালট? বুথফেরত সমীক্ষায় বিস্ফোরক ইঙ্গিত— কার দখলে যাচ্ছে নবান্ন?

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। দুই দফার এই মেগা লড়াইয়ের ফলাফল জানতে সারা দেশ যখন ৪ মে-র দিকে তাকিয়ে, ঠিক তখনই সামনে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথফেরত সমীক্ষা বা একজিট পোল (Exit Poll)। তবে এবারের সমীক্ষার ফল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং চমকপ্রদ। কোনো কোনো সমীক্ষা বলছে বাংলায় এবার পদ্ম ফুটবে, আবার কোনো সংস্থা বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াই: কার পাল্লা ভারী?

২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। অধিকাংশ বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, এবারের মূল লড়াই সীমাবদ্ধ রয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যেই। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এবারের সমীক্ষাগুলোতে বিজেপির ব্যাপক উত্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।

এক নজরে বিভিন্ন সংস্থার সম্ভাব্য ফলাফল:

সমীক্ষাকারী সংস্থা বিজেপি (BJP) তৃণমূল (TMC) অন্যান্য/বাম-কংগ্রেস
প্রজা পোল (Praja Poll) ১৭৮–২০৮ ৮৫–১১০ ০–৫
পি-মার্ক (P-Mark) ১৫০–১৭৫ ১১৮–১৩৮
ম্যাট্রিজ় (Matrize) ১৪৬–১৬১ ১২৫–১৪০ ৬–১০
চাণক্য স্ট্র্যাটেজি ১৫০–১৬০ ১৩০–১৪০ ৬–১০
পিপল্‌স পাল্‌স ৯৫–১১০ ১৭৮–১৮৯ ১–৪
জনমত পোল্‌স ৮০–৯০ ১৯৫–২০৫ ১–৪
জেভিসি (JVC) ১৩৮–১৫৯ ১৩১–১৫২ ০–২

উধাও বাম-কংগ্রেস?

এবারের সমীক্ষাগুলোতে সবথেকে শোচনীয় অবস্থা বাম এবং কংগ্রেসের। প্রায় প্রতিটি সংস্থাই তাদের আসন সংখ্যা শূন্য থেকে তিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। যদি এই সমীক্ষা সত্যি হয়, তবে বাংলার রাজনীতি থেকে তৃতীয় শক্তি কার্যত বিলীন হওয়ার পথে।

রেকর্ড ভোটদানই কি নির্ণায়ক?

২৩ এবং ৩০ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল আকাশচুম্বী— প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি। বিপুল সংখ্যক মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই ফলাফলকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই অতিরিক্ত ভোট যেমন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে, তেমনই হতে পারে তা শাসক দলের প্রতি মানুষের অগাধ আস্থার প্রতিফলন।

বুথফেরত সমীক্ষা কি ধ্রুবসত্য?

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, বুথফেরত সমীক্ষা কখনোই চূড়ান্ত ফলাফল নয়। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে অনেকবার দেখা গিয়েছে যে, একজিট পোলের দাবি সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে জনাদেশ অন্য পথে গিয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনেও অনেক সংস্থা বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছিল তৃণমূলই। তাই এই পরিসংখ্যানকে ইঙ্গিত হিসেবে নিলেও আসল ফলাফল জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ৪ মে পর্যন্ত।

বাংলার মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তার চূড়ান্ত উত্তর এখন ইভিএম-এ বন্দি। তবে একজিট পোলের এই বৈচিত্র্যময় চিত্র ভোট পরবর্তী উত্তাপ যে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।