ভোটের সকালেই রণংদেহি মমতা! রাতভর কী ঘটল? ফোন থেকে ভিডিও দেখিয়ে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী

বাংলার ভোটের চিরাচরিত ছবিটা আজ আমূল বদলে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাধারণত ভোটের দিন বিকেলের দিকে তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায়, কিন্তু আজ ছবিটা ছিল একেবারে ভিন্ন। ঘড়ির কাঁটা সকালের ঘর ছুঁতেই রাজপথে নেমে পড়লেন তিনি। আর নেমেই কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে উগরে দিলেন একরাশ ক্ষোভ।
“সারারাত ঘুমাইনি”: বিস্ফোরক মমতা
এদিন এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তিনি সারারাত জেগে পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অবজারভাররা থানায় থানায় গিয়ে পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন। মমতা বলেন:
“অবজারভাররা থানায় গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। শুধু তৃণমূলকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমাদের যুব নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ববি (ফিরহাদ হাকিম) গিয়ে ওদের ছাড়িয়ে এনেছে।”
ভিডিও দেখিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি
এদিন স্রেফ মুখেই নয়, নিজের মোবাইল থেকে ভিডিও দেখিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর বাবাই-এর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হানা। মমতার দাবি:
রাত ২টোর সময় রাজ্য পুলিশ ছাড়াই সিআরপিএফ বাবাই-এর বাড়িতে চড়াও হয়।
সেই সময় বাড়িতে কাউন্সিলর ছিলেন না, তাঁর স্ত্রী ও ছোট সন্তান একা ছিলেন।
বাহিনীর জওয়ানরা দরজায় লাথি মেরেছে এবং বাবাইকে রাজনীতি না করার হুমকি দিয়েছে।
ভাঙড় নিয়ে নিশানা
শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় নিয়েও সরব হন তিনি। ভাঙড়ের একটি ভিডিও দেখিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, সেখানকার ওসি এক যুবককে নির্মমভাবে মারধর করেছেন। ক্ষোভের সুরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে ওরা। এরপরও মানুষ ওদের ভোট দেবে?”
কেন সাতসকালেই পথে নেত্রী?
রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্বিতীয় দফার এই ১৪২টি আসন তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের গড় রক্ষা করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও রাজি নন, সাতসকালেই পথে নেমে তিনি সেই বার্তাই দিলেন। একদিকে যখন শুভেন্দু অধিকারী বুথে বুথে ঘুরছেন, তখন মমতার এই সক্রিয়তা ভোটের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।