উত্তপ্ত ভোটেও ‘মিষ্টি হাসি’! কানাইপুরে মুখোমুখি মীনাক্ষী-শীর্ষণ্য, সৌজন্যের ছবিতে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া

বৃহস্পতিবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ নির্বাচন। সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও রাজনৈতিক চাপানউতোরের খবর মিলছে, ঠিক তখনই এক বিরল সৌজন্যের সাক্ষী থাকল উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র। কানাইপুর নেতাজি স্কুলের বুথের সামনে মুখোমুখি হলেন দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ— তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিআইএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
মুহূর্তে উধাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এদিন সকালে কানাইপুরের বুথ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মীনাক্ষী। তিনি যখন বুথ থেকে বেরোচ্ছেন, ঠিক তখনই সেখানে সপার্ষদ পৌঁছন তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য। উত্তপ্ত আবহে সচরাচর যা দেখা যায় না, এদিন ঠিক সেটাই ঘটল। একে অপরকে দেখে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে দাঁড়িয়ে পড়েন দুজনেই। রাজনৈতিক লড়াইকে একপাশে সরিয়ে রেখে বিনিময় হয় এক চিলতে সৌজন্যের হাসি।
হাসিমুখে বিদায় মীনাক্ষীর
রাজনীতির ময়দানে একে অপরের কড়া সমালোচক হলেও এদিন দুই প্রার্থীর শরীরী ভাষায় ছিল পরম শ্রদ্ধা। মীনাক্ষীর হাসিমুখের উত্তর হাসিমুখে ফিরিয়ে দেন শীর্ষণ্যও। শেষে অত্যন্ত সাবলীলভাবে ‘আসি’ বলে বিদায় জানান বাম প্রার্থী। এই সৌজন্যের ছবি নিমেষেই ভাইরাল হয় নেটদুনিয়ায়।
বিজেপির ‘সেটিং’ কটাক্ষ
তবে এই সৌজন্যকে মোটেও ভালো চোখে দেখছে না গেরুয়া শিবির। উত্তরপাড়ার এই ছবি দেখে বিজেপির দাবি, “তৃণমূল আর সিপিএম যে গোপনে একে অপরের পরিপূরক এবং তাঁদের মধ্যে একটা সেটিং চলছে, এই হাসিখুশি মেজাজই তার প্রমাণ।” যদিও দুই প্রার্থীরই দাবি, এটি কেবল ব্যক্তিগত স্তরের সুস্থ সৌজন্য, এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগ নেই।
আমজনতার প্রতিক্রিয়া
রাজনৈতিক তরজা চললেও সাধারণ ভোটারদের বড় একটা অংশ এই চিত্রকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে কাদা ছোড়াছুড়ি না করে এই সুস্থ সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের প্রকৃত রূপ।