নন্দীগ্রামের বদলা না কি ফের ম্যাজিক? ভবানীপুরে মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু, কার দখলে যাবে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’?

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের মানচিত্রে এবারের সবচেয়ে বড় রণক্ষেত্র দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। ২০১১ সাল থেকে যে কেন্দ্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত, সেখানেই এবার থাবা বসাতে মরিয়া বিজেপি। আরও বড় বিষয় হলো, নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের পর আবারও সরাসরি মুখোমুখি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রের লড়াই এখন আর স্রেফ একটা আসনের জয়-পরাজয় নয়, বরং দুই হেভিওয়েটের কাছে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নন্দীগ্রামের ছায়া ভবানীপুরে?
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে অল্প ব্যবধানে হারতে হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীকে। এবার নিজের ঘরের মাঠে শুভেন্দুর মুখোমুখি হয়ে সেই হারের বদলা নিতে চান মমতা। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর লক্ষ্য একটাই— মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর নিজের কেন্দ্রেই পরাজিত করে ‘জায়েন্ট কিলার’ হিসেবে নিজেকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা।
জটিল ভোটব্যাঙ্ক ও ‘কসমোপলিটান’ ফ্যাক্টর
ভবানীপুর মানেই কেবল বাঙালি ভোট নয়। এখানে যেমন পুরনো অভিজাত বাঙালি পরিবার রয়েছে, তেমনই বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন গুজরাতি, মারোয়াড়ি, পাঞ্জাবি এবং শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে:
তৃণমূলের শক্তি: বস্তি এলাকা এবং নিম্নবিত্ত ভোটারদের মধ্যে মমতার ‘ঘরের মেয়ে’ ইমেজ ও জনমোহিনী প্রকল্পগুলো এখনও বড় হাতিয়ার।
বিজেপির আশা: শহুরে মধ্যবিত্ত ও অ-বাঙালি ভোটারদের একাংশের মধ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়াকে কাজে লাগিয়ে ফল ওল্টাতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ফলাফল?
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুরের জয়-পরাজয় রাজ্যের আগামীর সামগ্রিক রাজনীতির দিশা ঠিক করে দেবে। যদি মমতা বড় ব্যবধানে জেতেন, তবে তা হবে তাঁর জনপ্রিয়তার পুনঃপ্রতিষ্ঠা। আর যদি লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হয় বা কোনো অঘটন ঘটে, তবে তা তৃণমূলের সংগঠনের ভিতে বড়সড় ধাক্কা বলে গণ্য হবে।