‘ফর্সা-মিষ্টি বাবুয়া’ বনাম ‘সিংঘম’! উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্টকে নিয়ে বাংলা ভোটে চরম তর্জা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজনৈতিক অলিন্দ। তবে এবার ইস্যু কোনো জনসভা নয়, বরং উত্তরপ্রদেশ থেকে বাংলায় পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা দুঁদে আইপিএস অফিসার অজয়পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের এই ‘সিংঘম’ খ্যাত এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞকে নিয়ে এখন সরগরম নেটপাড়া থেকে শুরু করে তৃণমূল-সপা শিবির।

মহুয়ার বিষবাণ: ‘ফর্সা ও মিষ্টি বাবুয়া’
তৃণমূল কংগ্রেসের লড়াকু নেত্রী মহুয়া মৈত্র অজয়পাল শর্মাকে সরাসরি নিশানা করেছেন। একটি ভাইরাল ভিডিওর সূত্র ধরে অজয়পালকে বিদ্রূপ করে মহুয়া বলেন, “ফর্সা ও মিষ্টি বাবুয়া অজয়পাল সিং, আপনাকে ফ্যান্টাকপ স্টাইলে মজা করতে দেখে ভালো লাগছে। শান্ত থাকুন। বাংলা বরাবরই তৃণমূলের।” মহুয়ার এই মন্তব্যে কার্যত স্পষ্ট যে, উত্তরপ্রদেশের এই অফিসারকে বাংলায় মোটেও ভালোভাবে গ্রহণ করছে না শাসকদল।

অখিলেশ যাদবের তোপ: ভাবমূর্তি তলানিতে
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদব এই ইস্যুটিকে সরাসরি উত্তরপ্রদেশ সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ওই কর্মকর্তার একটি বিতর্কিত ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর অখিলেশ অভিযোগ করেন, এই ধরনের অশালীন ঘটনা উত্তরপ্রদেশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। তিনি বলেন, “নারীদের সম্মান করার তথাকথিত দাবিগুলো এখন বিজেপির সামনেই উন্মোচিত হয়ে গেছে। দেখা যাক, এই প্রিয় পাত্রকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী এখন ভিডিওটিকে এআই (AI) নির্মিত বলে দাবি করেন কি না!”

বিজেপির ‘পরীক্ষিত এজেন্ট’?
অখিলেশ যাদব আরও দাবি করেন যে, উত্তরপ্রদেশের রামপুর ও সম্ভলের মতো জায়গা থেকে বিজেপি তাদের ‘পরীক্ষিত এজেন্টদের’ পর্যবেক্ষকের ছদ্মবেশে বাংলায় পাঠিয়েছে। তবে তাঁর হুঙ্কার—যতই অফিসার পাঠানো হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ক্ষমতায় ফিরছেন।

তৃণমূলের ক্ষোভ ও ‘সিংঘম’ ইমেজ:
তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল বিবৃতিতে অজয়পাল শর্মাকে উত্তরপ্রদেশের কুখ্যাত ‘সিংঘম’ এবং যোগী আদিত্যনাথের প্রিয় ‘এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে তাঁর নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল বলছে, যাঁর ‘ঠোক দো’ (এনকাউন্টার করা) মানসিকতা রয়েছে, তাঁকে নিয়োগ করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে।

সারসংক্ষেপ:
একজন আইপিএস কর্মকর্তাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক সংঘাত এখন চরমে। একদিকে বিরোধীরা তাঁর বরখাস্তের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। শেষ পর্যন্ত ‘ফর্সা বাবুয়া’র এই বিতর্ক ভোটবাক্সে কতটুকু প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।