টাকার বিনিময়ে জাল দলিলে সিলমোহর! বিহারের মহিলা অফিসারকে কড়া সাজা দিল প্রশাসন

বিহারের রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার বিভাগের অন্দরে থাকা দুর্নীতির এক অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে এল। কিষাণগঞ্জ জেলার ঠাকুরগঞ্জে জাল নথির ভিত্তিতে জমি নামজারি (মিউটেশন) করে দেওয়ার অপরাধে কড়া শাস্তির মুখে পড়লেন তৎকালীন সার্কেল অফিসার (সিও) সুচিতা কুমারী। দুর্নীতির প্রমাণ মেলায় তাঁর আগামী দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি (Increment) স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিভাগ।

কী ছিল সেই জালিয়াতি?
ঘটনাটি ঠাকুরগঞ্জ ব্লকের ভাটগাঁও পঞ্চায়েতের। অভিযোগকারী মোহাম্মদ কাসমুদ্দিনের দাবি, তাঁর সৎ ভাই মোহাম্মদ জামিল আখতার একটি জাল কেওয়ালা বা রেজিস্ট্রি দলিল তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করেন। তৎকালীন সিও সুচিতা কুমারী সব জেনেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেই জাল নথিকেই বৈধতা দেন এবং জমিটি জামিল আখতারের নামে হস্তান্তর করে দেন।

তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
বিষয়টি কিষাণগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (DM) কানে পৌঁছালে তিনি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০২৫ সালের ২৯শে এপ্রিল জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়:

আপত্তি অগ্রাহ্য: ভুক্তভোগী বারবার আপত্তি জানানো সত্ত্বেও সিও কোনো কর্ণপাত করেননি।

আবেদন খারিজ না করা: ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর জমি হস্তান্তর বাতিলের আবেদন জমা পড়লেও তা রহস্যজনকভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিয়ম লঙ্ঘন: কোনো রকম যাচাই ছাড়াই টাকার বিনিময়ে মিউটেশন অনুমোদন করা হয়েছিল।

কড়া পদক্ষেপ:
রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হস্তক্ষেপে এই জালিয়াতির পর্দাফাঁস হয়। বিভাগীয় তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সুচিতা কুমারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গলগালিয়া থানায় এই জালিয়াতির বিষয়ে একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

এই ঘটনাটি বিহারের ভূমি সংস্কার বিভাগে কর্মরত অসৎ কর্মকর্তাদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জমি নিয়ে নয়ছয় করলে যে রেহাই নেই, তা এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপেই স্পষ্ট।

Saheli Saha
  • Saheli Saha