“আম, লাউ, কুদরি…”-মমতার বাজারের থলিতে কী কী?—কত টাকার কেনাকাটা করলেন ‘দিদি’?

প্রচারের শেষ বেলায় জনসংযোগে নয়া চমক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরে নিজের ঘরের মাঠে প্রচার সারতে সারতে সটান ঢুকে পড়লেন যদুবাবুর বাজারে। সাধারণ মানুষের মতো ফল-সবজির দরদাম করে বাজার করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর দিদিকে হাতের নাগালে পেয়ে আপ্লুত বাজারের ছোট ব্যবসায়ীরা।
কী কী কিনলেন মমতা?
রবিবার যদুবাবুর বাজারের ফল বিক্রেতা ভিকি শাউ-এর দোকানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। ভিকি জানান, দিদি তাঁর দোকান থেকে মোট ৫০০ টাকার ফল কিনেছেন। কী ছিল সেই তালিকায়?
-
আলফানসো আম: দিদির বরাবরের প্রিয়। দুটি আম নিয়েছেন তিনি।
-
অন্যান্য: এর পাশাপাশি আপেল এবং আঙুরও কিনেছেন স্বাস্থ্য সচেতন মুখ্যমন্ত্রী।
ফল বিক্রেতা ভিকির কথায়, “দিদি মিটিং করবেন জানতাম, কিন্তু সটান দোকানে চলে আসবেন ভাবিনি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেও তিনি এই বাজারে নিয়মিত আসতেন।”
সবজির ঝুলি ও ৫০০ টাকার নোট
ফলের দোকান সেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পা বাড়ান সবজি বিক্রেতা মহামায়া রায়ের দোকানের দিকে। সেখান থেকে তিনি কেনেন:
-
শসা, লেবু, লাউ এবং কুদরি। বিক্রেতা মহামায়া জানান, বাজার অনেক কম টাকার হলেও দিদি তাঁকে ৫০০ টাকা দিয়ে গিয়েছেন। মহামায়ার কথায়, “ভোট থাক বা না থাক, দিদি এই রাস্তা দিয়ে গেলে মাঝে মাঝেই গাড়ি থামিয়ে আমাদের খোঁজখবর নেন।”
বিজেপির কটাক্ষ ও বিক্রেতাদের জবাব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বাজার করাকে ‘ভোটের গিমিক’ বলে খোঁচা দিয়েছে বিজেপি। তবে যদুবাবুর বাজারের ব্যবসায়ীরা সেই অভিযোগ মানতে নারাজ। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক মহামায়া স্পষ্ট জানান, “বিজেপির ৩ হাজার টাকা লাগবে না, আমরা দিদিকেই চাই।”
ভোটের উত্তাপে যখন সরগরম রাজ্য, তখন খাস কলকাতার বাজারে মমতার এই সাধারণ ঘরোয়া মেজাজ যে ভোটারদের মনে বাড়তি ছাপ ফেলতে চাইছে, তা বলাই বাহুল্য।