বিজয়-ই হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী? তামিলনাড়ুতে TVK -ঝড়, ধুলিসাৎ স্ট্যালিন-পনিরসেলভামদের সাম্রাজ্য?

দক্ষিণের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। বহু দশকের চেনা ডিএমকে (DMK) এবং এআইএডিএমকে (AIADMK) দ্বৈরথকে কার্যত ইতিহাসের পাতায় পাঠিয়ে দিয়ে তামিলনাড়ুর মসনদে বসার পথে অভিনেতা থলপতি বিজয়। সোমবার ভোটগণনার শুরু থেকেই তাঁর দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (TVK) যে ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করেছে, তাতে দিশেহারা রাজ্যের হেভিওয়েট রাজনীতিকরা।
বিজয়-ঝড়ে তছনছ ক্ষমতাসীন শিবির প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, তামিলনাড়ু বিধানসভার একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে উঠে আসার পথে বিজয়ের টিভিকে। বর্তমানে তারা ১০৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সেখানে ক্ষমতাসীন ডিএমকে মাত্র ৫২টি আসনে লিড নিয়ে কার্যত ধুঁকছে। অন্যদিকে, এআইএডিএমকে ৭৩টি আসনে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বিজয়ের জনপ্রিয়তার কাছে তারা অনেকটাই ফিকে।
শহরে একাধিপত্য, টার্গেট যুব সমাজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চমকে দিয়ে শহরাঞ্চলে অবিশ্বাস্য ফল করেছে বিজয়ের দল। চেন্নাই অঞ্চলের ৩৭টি আসনের মধ্যে ৩১টিতেই এগিয়ে টিভিকে। ৬৫টি শহুরে আসনের মধ্যে ৪৯টিতে লিড নিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, তামিলনাড়ুর শিক্ষিত এবং তরুণ ভোটাররা এবার সিনেমার ‘লার্জার দ্যান লাইফ’ নায়ককেই বাস্তবের নায়ক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গ্রামীণ এলাকাতেও এআইএডিএমকে-র মতো শক্ত গাঁটকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ৩৩টি আসনে থাবা বসিয়েছে বিজয়ের দল।
পিছিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী, ধরাশায়ী হেভিওয়েটরা সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটেছে কোলাথুরে, যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিন টিভিকে প্রার্থীর কাছে পিছিয়ে পড়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে বিজয় তাঁর লড়াকু দুই কেন্দ্র পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট—উভয় জায়গাতেই বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। শুধু স্টালিন নন, বিজেপির হেভিওয়েট নেত্রী তামিলিসাই সৌন্দররাজন এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি নাইনার নাগেন্দ্রনও পিছিয়ে রয়েছেন নিজ নিজ কেন্দ্রে।
বিজয়-গড় এখন উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু ফলাফল ঘোষণার আগেই চেন্নাইয়ে বিজয়ের বাড়ির বাইরে শুরু হয়েছে অকাল দীপাবলি। সমর্থকরা ‘থলপতি-থলপতি’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলছেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিজয়ের পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে জয়ের আনন্দে মেতেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজয়ের বাসভবনের বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
অভিনেতা থেকে জননেতা হওয়ার এই সফর তামিলনাড়ুর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। দীর্ঘদিনের দ্রাবিড় রাজনীতির প্রথা ভেঙে বিজয়ের এই উত্থান আগামী দিনে ভারতের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।