মধ্যরাতে বলাগড়ে ‘টাকা বিলি’র অভিযোগ! বিজেপি নেতার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে তুলকালাম, কাঠগড়ায় তৃণমূল

প্রচারের সময়সীমা শেষ হয়েছে আগেই, কিন্তু অশান্তি যেন থামছেই না। সোমবার গভীর রাতে হুগলির বলাগড়ে ‘টাকা বিলি’র অভিযোগ ঘিরে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলো। সোমড়া ২ নম্বর পঞ্চায়েতের কোরোলা মোড়ে বিজেপির গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও শাসক শিবিরের পাল্টা দাবি, গাড়িতে করে ভোটারদের টাকা বিলি করছিল পদ্মশিবির।
ঘটনাক্রম:
বিজেপির দাবি, দলের এক অসুস্থ কর্মীর মায়ের সঙ্গে দেখা করে ফেরার সময় কোরোলা মোড়ে তাঁদের গাড়ি আটকায় তৃণমূল সমর্থকরা। অভিযোগ, ইটের ঘায়ে গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয় এবং বিজেপি কর্মীদের হেনস্থা করা হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকার। এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
প্রার্থী বনাম শাসক দল: পাল্টা অভিযোগ
বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকার বলেন: “অসুস্থ কর্মীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী আমাদের গাড়ি আটকায় এবং ভাঙচুর চালায়। ওরা অভিযোগ তোলে আমরা না কি টাকা দিচ্ছিলাম! পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে আমরা গাড়ি চেক করতে বলি। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে কিছুই পায়নি। হারের ভয়েই তৃণমূল এই নাটক করছে।”
তৃণমূলের যুব সভাপতি দেবায়ন রায় বলেন: “আমাদের কাছে পাকা খবর ছিল সুমনা সরকার ও তাঁর সঙ্গীরা দুটি গাড়িতে করে পতাকা-ফ্লেক্সের আড়ালে টাকা বিলি করছেন। আমরা পুলিশকে খবর দিই। আমরা নিশ্চিত যে গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে। তৃণমূল কারও গাড়িতে হামলা চালায়নি, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করেছে।”
থমথমে বলাগড়:
ভোটের মুখে মধ্যরাতে এমন হাই-ভোল্টেজ ড্রামা আর অশান্তির জেরে সোমড়া এলাকায় থমথমে পরিবেশ। পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গেই কথা বলছে। প্রচার শেষেও কেন প্রার্থীর গাড়ি এলাকায় ঘুরছিল, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই পুলিশের তল্লাশিতে সত্যিই কিছু পাওয়া গিয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
ভোটের লাইনে দাঁড়ানোর আগে এই ‘টাকা বনাম হামলা’র লড়াই ভোটারদের মনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।