রাজ্যে বড়সড় পালাবদলের ইঙ্গিত! মমতা-অভিষেকের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী, থমথমে কালীঘাট!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার শুরুতেই রাজ্যে বড়সড় পরিবর্তনের হাওয়া। প্রাথমিক গণনার ট্রেন্ড আসতেই দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া শিবির ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। আর এই টানটান উত্তেজনার মধ্যেই রাজ্যের একাধিক প্রান্ত থেকে অশান্তি ও হিংসার খবর আসায় নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।
মমতা-অভিষেকের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কালীঘাট সংলগ্ন এলাকা কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই এই আগাম সতর্কতা।
বিজেপি-র বিপুল লিড ও বিজয়োল্লাস শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৯১টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। উল্টোদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৯৭টি আসনে লিড ধরে রাখতে পেরেছে। বাম জোট ৩টি ও অন্যান্যরা ২টি আসনে এগিয়ে। এই ট্রেন্ড সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে গেরুয়া আবির খেলা ও লাড্ডু বিলি শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাফল্যের স্বাদ পেয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি শিবির।
রণক্ষেত্র বিভিন্ন জেলা: আক্রান্ত তৃণমূল প্রার্থীরা! তবে এই জয়ের আবহের মাঝেই দানা বাঁধছে হিংসা। আসানসোলে জয়ধ্বনি ও স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ উঠেছে, খোদ কাউন্টিং হলের বাইরেই তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
পাশাপাশি, নোয়াপাড়া ও বীজপুর কেন্দ্র থেকেও উদ্বেগজনক খবর আসছে। সেখানে বুথের ভিতরেই তৃণমূল প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনার ও জেলাশাসককে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কড়া নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বিজেপির এই অভাবনীয় উত্থান এবং রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখন দেশজুড়ে চর্চা তুঙ্গে। সন্ধের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল কী দাঁড়ায় এবং প্রশাসন শান্তি বজায় রাখতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার।