ভোট দিতে বাধা দিলে এক কলেই কুইক রেসপন্স টিম! কমিশনের ‘ত্রাতা’ হেল্পলাইন নম্বরগুলো সেভ রাখুন

আগামীকাল বুধবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মহারণ। তিলোত্তমা কলকাতা-সহ রাজ্যের ১৪২টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে এদিন ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার শান্তিপূর্ণ মেজাজ ধরে রাখতে এবং ভোটারদের মন থেকে ভয় কাটাতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বুথে দাদাগিরি বা ভোটারদের ভয় দেখানো রুখতে একগুচ্ছ নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাহিনীর ‘ত্রাতা’ হেল্পলাইন: সরাসরি আইজি-র সাথে যোগাযোগ
ভোট দিতে যাওয়ার পথে কেউ যদি বাধা দেয় কিংবা বাড়িতে এসে কেউ হুমকি দিয়ে যায়, তবে আর চিন্তা নেই। সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সিআরপিএফ (CRPF)-এর আইজি (ওয়েস্ট বেঙ্গল সেক্টর) সরাসরি ৩টি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন। বাহিনীর দাবি, ফোন করা মাত্রই সংশ্লিষ্ট বুথে পৌঁছে যাবে কুইক রেসপন্স টিম (QRT)।
নম্বরগুলি সেভ রাখুন:
৮৪২০২৭২১০১
৮৪২০২৭২৩৪৩
০৩৩-২৩৬৭১১১৭
রেকর্ড ২ লক্ষ বাহিনী: জল-স্থল-অন্তরীক্ষে নজরদারি
দ্বিতীয় দফার এই হাই-ভোল্টেজ ভোটে নিরাপত্তার কোনো খামতি রাখছে না কমিশন। এদিন রেকর্ড সংখ্যক ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকছেন। প্রতিটি বুথকে দুর্গের মতো আগলে রাখবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি রাজপথ থেকে অলিগলি—সর্বত্র চলছে এরিয়া ডমিনেশন। সূত্রের খবর, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আকাশপথে ড্রোন বা হেলিকপ্টারের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হতে পারে।
ছাপ্পা রুখতে কড়া দাওয়াই: ১ বছরের জেল
ভোট লুঠ বা ছাপ্পা দেওয়া রুখতে এবার কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন। সাফ জানানো হয়েছে, বুথ দখল বা ভুয়ো ভোটিংয়ের সময় কেউ হাতেনাতে ধরা পড়লে তাকে সরাসরি ১ বছরের কারাবাসের সাজা দেওয়া হবে। রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে কোনো রেয়াত করা হবে না বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
এক নজরে দ্বিতীয় দফা:
মোট আসন: ১৪২টি।
মূল কেন্দ্র: কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চল।
নিরাপত্তা: ২ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ।
বিশেষ ব্যবস্থা: ৩টি ডেডিকেটেড হেল্পলাইন নম্বর।
বুধবারের এই লড়াইয়ে যেমন হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে, তেমনই বড় চ্যালেঞ্জ ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করা। কমিশনের এই দুর্ভেদ্য নিরাপত্তায় সাধারণ মানুষ কতটা ভরসা পায়, এখন সেটাই দেখার।