এসি কেনার আগে সাবধান! ৩ স্টার নাকি ৫ স্টার—কোনটিতে বাঁচবে পকেটের টাকা? জেনে নিন আসল সত্যি

চৈত্র সেলের বাজারে রোদ বাড়ার আগেই এসির (AC) দোকানে ভিড় জমছে মধ্যবিত্তের। কিন্তু হুজুগে পড়ে এসি কিনে পরে ইলেকট্রিক বিল দেখে ঘাম ঝরানোর চেয়ে, একটু পরিকল্পনা করে কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ। আপনিও কি এই গরমে এসি কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে জেনে নিন এই জরুরি বিষয়গুলো:

৩ স্টার নাকি ৫ স্টার: কোনটা আপনার জন্য?
অনেকেই মনে করেন ৫ স্টার এসি কিনলেই বিল অর্ধেক হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। যদি আপনার এসি ব্যবহারের সময় দিনে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা হয়, তবে ৩ স্টার এসি কেনাই সবচেয়ে লাভজনক। ৫ স্টার এসির বাড়তি দাম উসুল হতে আপনার কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। তবে দীর্ঘ সময়ের ব্যবহারের জন্য ৫ স্টার অবশ্যই সেরা।

ব্র্যান্ড ও টেকনোলজি: স্যামসাং নাকি প্যানাসনিক?
বাজারে এখন স্মার্ট ফিচারের রমরমা। Samsung ও Panasonic-এর মতো ব্র্যান্ডগুলোর ১.৫ টনের এসি বর্তমানে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যেই মিলছে।

স্মার্ট কন্ট্রোল: অফিস থেকে বেরোনোর সময় মোবাইলের অ্যাপ দিয়ে এসি অন করার সুবিধা থাকছে এই রেঞ্জে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা: প্যানাসনিকের ‘ডাস্ট বাস্টার’ টেকনোলজি বাতাসের ধুলিকণা ফিল্টার করে শরীর সুস্থ রাখে।

বাজেট অপশন: পকেটে টান থাকলে MarQ-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো ২০ হাজার টাকাতেও এসি দিচ্ছে, যা কম বাজেটের জন্য সেরা ডিল।

লুকানো খরচ ভুলবেন না!
এসি শুধু কিনলেই হলো না, সাথে কিছু বাড়তি খরচও থাকে:

ইনস্টলেশন: সাধারণত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা ইনস্টলেশন চার্জ হিসেবে লাগে।

স্টেবিলাইজার: ভোল্টেজের ওঠানামা বা বজ্রপাত থেকে এসি বাঁচাতে ২ হাজার টাকার মধ্যে একটি ভালো স্টেবিলাইজার কেনা বাধ্যতামূলক।

সার্ভিসিং-ই এসির আয়ু
নতুন এসি হোক বা পুরনো—ব্যবহার শুরু করার আগে অবশ্যই দক্ষ মেকানিক দিয়ে সার্ভিসিং করান। গ্যাস লিক হচ্ছে কি না বা ইনডোর-আউটডোর ইউনিট নোংরা কি না, তা দেখে নিন। পরিষ্কার ফিল্টার শুধু কুলিং বাড়ায় না, বিদ্যুৎ খরচও প্রায় ১০-১৫% কমিয়ে দেয়।

এডিটরের টিপস: এসি কেনার সময় সবসময় কম্প্রেসরের ওয়ারেন্টি এবং আপনার এলাকায় ওই ব্র্যান্ডের ‘আফটার সেলস সার্ভিস’ কেমন, তা যাচাই করে তবেই টাকা বিনিয়োগ করুন। অনলাইন অফার বা ব্যাঙ্কের ডিসকাউন্ট ব্যবহার করলে আরও ২-৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হতে পারে।