মারাঠি না জানলে বাতিল হবে অটো-ট্যাক্সি লাইসেন্স? ১ মে-র ডেডলাইন নিয়ে বড় আপডেট দিলেন মন্ত্রী!

মহারাষ্ট্রের অটো-রিকশা ও ট্যাক্সি চালকদের জন্য মারাঠি ভাষা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন মোড়। ১লা মে ‘মহারাষ্ট্র দিবস’ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, তা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে বলে যে খবর রটেছিল, তা নিয়ে স্পষ্টীকরণ দিলেন রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী প্রতাপ সারনাইক। তিনি জানিয়েছেন, এখনই স্থগিতের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; বরং চূড়ান্ত ফয়সালা হবে মঙ্গলবার।
মঙ্গলবার আরটিও-র মেগা বৈঠক
মন্ত্রী প্রতাপ সারনাইক স্পষ্ট করে বলেন, “আগামীকাল (মঙ্গলবার) আরটিও (RTO) কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত আছে। চালকরা এই নিয়ম মানার জন্য ছয় মাস সময় চেয়েছেন। সেই দাবি মানা হবে কি না, তা বৈঠকেই ঠিক হবে।” তবে সরকার যে তার অবস্থানে অনড়, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
কী রয়েছে নতুন নিয়মে?
মহারাষ্ট্র সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত অটো ও ট্যাক্সি চালকদের মারাঠি ভাষা জানা বাধ্যতামূলক। চালকদের দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে তিনটি স্তরে:
পঠন: মারাঠিতে লেখা সাইনবোর্ড বা নথি পড়তে পারা।
লিখন: একটি সাধারণ বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারা।
কথোপকথন: যাত্রীদের সঙ্গে মারাঠিতে সাধারণ কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া।
লাইসেন্স বাতিলের হুঁশিয়ারি
যাঁরা এই পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হবেন বা মারাঠি বলতে অস্বীকার করবেন, তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। পরিবহন বিভাগ বিশেষ করে মুম্বাই, ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এবং নাগপুর থেকে প্রচুর অভিযোগ পেয়েছে যে, চালকরা মারাঠি ভাষায় কথা বলতে পারেন না বা বলতে চান না। এর প্রতিকারেই এই কড়া পদক্ষেপ।
অফিসারদের ওপরও পড়বে কোপ!
মন্ত্রী সারনাইক কেবল চালকদের নয়, হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদেরও। তিনি জানান, “যে রাজ্যে জীবিকা নির্বাহ করছেন, সেখানকার ভাষাকে সম্মান জানানো নৈতিক দায়িত্ব।”
যথাযথ তদন্ত ছাড়াই যারা অপেশাদার চালকদের লাইসেন্স দিয়েছেন, সেই সব পরিবহন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজ্যজুড়ে ৫৯টি মোটর পরিবহন অফিসের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান চালিয়ে চালকদের ভাষা জ্ঞান যাচাই করা হবে।
আবেগ ও জীবিকার লড়াই
মন্ত্রীর মতে, প্রত্যেকের নিজের মাতৃভাষা নিয়ে গর্ব থাকা উচিত, কিন্তু মহারাষ্ট্রে কাজ করতে হলে মারাঠি জানা আবশ্যক। এখন দেখার বিষয়, মঙ্গলবারের বৈঠকে চালকদের ছয় মাসের সময়সীমা দেওয়া হয় নাকি ১লা মে থেকেই কড়াকড়ি শুরু হয়।