নিউজিল্যান্ডে চাকরির সুবর্ণ সুযোগ! ৩ বছরের ওয়ার্ক ভিসা পাবেন ভারতীয়রা, দুই দেশের মেগা ডিল কাঁপাবে বিশ্ব অর্থনীতি!

দীর্ঘ ১৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ‘দশকে একবার’ ঘটা ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন করল ভারত। সোমবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১০ সাল থেকে ঝুলে থাকা এই আলোচনা মাত্র এক বছরের তৎপরতায় চূড়ান্ত রূপ পেল, যা ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম চুক্তি।

তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় সুখবর: মিলবে ৩ বছরের ওয়ার্ক ভিসা
এই চুক্তির সবথেকে আকর্ষণীয় দিক হলো ভারতীয় তরুণ ও পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সুযোগ।

৫,০০০ পেশাজীবী: নিউজিল্যান্ড একটি বিশেষ ভিসা ব্যবস্থা চালু করছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর ৫,০০০ ভারতীয় পেশাজীবী সেখানে ৩ বছরের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন।

কারা পাবেন সুবিধা? আইটি (IT), শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং আর্থিক খাতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা সরাসরি লাভবান হবেন।

সাংস্কৃতিক দূত: শুধু কর্পোরেট নয়, যোগ প্রশিক্ষক, ভারতীয় শেফ এবং সঙ্গীত শিক্ষকদের মতো ঐতিহ্যবাহী পেশার মানুষদের জন্যও নিউজিল্যান্ডের দরজা খুলে গেল।

‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের করমুক্ত এন্ট্রি
বাণিজ্যিক দিক থেকে এই চুক্তি ভারতের ছোট ও মাঝারি শিল্পপতিদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ।

শূন্য শুল্ক: ভারতের বস্ত্র, চামড়া, প্লাস্টিক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এখন কোনো অতিরিক্ত কর ছাড়াই নিউজিল্যান্ডের বাজারে প্রবেশ করবে।

বিদেশি বিনিয়োগ: আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) আসবে।

কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘নিরাপত্তা বলয়’
বিদেশি পণ্যের ভিড়ে দেশীয় কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তার জন্য সরকার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে।

সংবেদনশীল খাত: দুগ্ধজাত পণ্য (দুধ, ঘি), চিনি এবং নির্দিষ্ট কিছু ধাতুকে এই চুক্তির আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।

আমদানি নিয়ন্ত্রণ: আপেল বা কিউই ফল আমদানির ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম বজায় থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, কিউই চাষিদের স্বাগত জানানো হলেও ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না।

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নয়া শক্তি
বর্তমানে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪ বিলিয়ন ডলার। এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক দাপট বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ মানুষের জন্য যেমন বিদেশি পণ্য সস্তা হবে, তেমনই ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সামনে খুলে যাবে এক নতুন দিগন্ত।