পুতুল নয়, এবার পাল্টা মার! চীনের একাধিপত্য গুঁড়িয়ে দিতে মালয়েশিয়ার সঙ্গে হাত মেলাল আমেরিকা?

বিশ্বজুড়ে খনিজ সম্পদের লড়াইয়ে এক নতুন মোড়! এতদিন যে ‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট’ বা দুর্লভ মৃত্তিকা উপাদানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকত, এবার সেই সমীকরণ বদলে যেতে চলেছে। এশিয়ার উদীয়মান শক্তি মালয়েশিয়ার মধ্যে চিনের বিকল্প খুঁজে পেয়েছে জো বাইডেনের প্রশাসন।

পেন্টাগনের ১ বিলিয়ন ডলারের বাজি
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, পেন্টাগন এবং মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই বিপুল অর্থ মালয়েশিয়া তাদের খনি থেকে বিরল খনিজ উত্তোলন এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার করবে। মূলত ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত রাডার ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র তৈরির জন্য এই উপাদানের কোনো বিকল্প নেই।

কীভাবে রাতারাতি ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠল মালয়েশিয়া?
দীর্ঘদিন চিনের দখলে থাকা এই বাজারে মালয়েশিয়ার উত্থান রীতিমতো চমকপ্রদ।

বিপুল ভাণ্ডার: মালয়েশিয়ার কুয়ানতানের কাছে এবং দেশটির প্রায় ৯টি রাজ্যে ২,৭০,০০০ টন অ-তেজস্ক্রিয় বিরল মৃত্তিকার হদিশ পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, মালয়েশিয়ার মাটির নিচে প্রায় ১.৫ থেকে ২ মিলিয়ন টন পর্যন্ত খনিজ সম্পদ চাপা পড়ে থাকতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ান কানেকশন: এই সম্পদ উত্তোলনের জন্য মালয়েশিয়া একটি অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, যারা খনি চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে।

আমেরিকার বাধ্যবাধকতা: ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতিতে এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে আমেরিকা চাইছে চিনের ৯০ শতাংশ একাধিপত্যকে চূর্ণ করতে।

কেন এই খনিজ এতোটা গুরুত্বপূর্ণ?
‘রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট’ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি অচল। বর্তমানে পেন্টাগনের উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো:

অস্ত্র উৎপাদন: সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও স্টিলথ ফাইটার জেটের ইলেকট্রনিক্স পার্টস তৈরিতে এটি অপরিহার্য।

চীন ফ্যাক্টর: চীন এতদিন এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে আমেরিকাকে চাপে রাখত। মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি সেই ‘ব্ল্যাকমেইল’ পলিসি বন্ধ করে দেবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি কেবল শুরু। মালয়েশিয়া যদি তাদের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা সাফল্যের সাথে বাড়াতে পারে, তবে পেন্টাগন এই বিনিয়োগ আরও কয়েক গুণ বাড়াতে প্রস্তুত। এর ফলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের অর্থনৈতিক ও সামরিক দাপট অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।