১ লক্ষ কোটির রেকর্ড ডিল! আমেরিকার কোম্পানি কিনল সান ফার্মা, ভারতীয় ওষুধ শিল্পের ইতিহাসে সবথেকে বড় ধামাকা!

সোমবার ভারতীয় কর্পোরেট জগত এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী থাকল। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা সান ফার্মা (Sun Pharma) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত বিখ্যাত কোম্পানি অর্গ্যানন অ্যান্ড কোং (Organon & Co.)-কে সম্পূর্ণ নগদ অর্থে অধিগ্রহণের ঘোষণা করেছে। ১১.৭৫ বিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই চুক্তি ভারতীয় ওষুধ শিল্পের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত বৃহত্তম।

কেন এই অধিগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ?
সান ফার্মা এখন কেবল জেনেরিক ওষুধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। এই চুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিটি নিজেকে একটি বিশ্বব্যাপী উদ্ভাবনী শক্তিতে রূপান্তরিত করল। অর্গ্যানন-এর সাথে আসার ফলে:

নারী স্বাস্থ্য: গর্ভনিরোধক ও প্রজনন চিকিৎসার ক্ষেত্রে সান ফার্মা এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে।

বিশাল ব্যাপ্তি: বিশ্বের ১৪০টি দেশে ব্যবসা ছড়িয়ে পড়বে।

পোর্টফোলিও: অর্গ্যাননের ৫০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড এবং দ্রুত বর্ধনশীল বায়োসিমিলার ব্যবসা এখন ভারতের দখলে।

এক ধাক্কায় আয় হবে দ্বিগুণ!
আর্থিক দিক থেকে এই ডিল সান ফার্মাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

রাজস্বের লাফ: ২০২৫ অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী, দুই কোম্পানি মিলে বার্ষিক আয় হবে প্রায় ১২.৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সান ফার্মার বর্তমান আয় (৬.২ বিলিয়ন ডলার) সরাসরি দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

মুনাফা: সম্মিলিত EBITDA দাঁড়াবে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে।

টাকার উৎস কোথায়? সান ফার্মা জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা ২২.৫ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ এবং ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের মাধ্যমে এই চুক্তির অর্থায়ন করা হবে। বড় ঋণ নিলেও কোম্পানির আত্মবিশ্বাস যে, অর্গ্যানন থেকে আসা মুনাফা দিয়ে দ্রুত সেই ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে।

র‍্যানব্যাক্সির পর এবার অর্গ্যানন: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
সান ফার্মার কর্ণধার দিলীপ সাংভি বড় ও জটিল কোম্পানি অধিগ্রহণে সিদ্ধহস্ত। ২০১৪ সালে র‍্যানব্যাক্সি-কে কিনেও তিনি চমক দিয়েছিলেন। এবার অর্গ্যানন-এর মাধ্যমে সেই ধারাকে আরও বড় মাপে নিয়ে গেলেন তিনি। এই ডিল সম্পন্ন হওয়ার পর ১৮টি দেশ থেকে ১০০ মিলিয়নেরও বেশি রাজস্ব আসবে এবং প্রায় ২৪,০০০ সদস্যের একটি বিশাল বাণিজ্যিক দল বিশ্বের কোণায় কোণায় ভারতের ওষুধ পৌঁছে দেবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
আগামী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে পারে। এর ফলে:

ওষুধ তৈরির খরচ কমবে (প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে)।

উন্নত বাজারের (মার্কিন ও ইউরোপ) বাণিজ্যিক পরিধি বাড়বে।

নতুন ওষুধ উদ্ভাবন এবং লাইসেন্সিং চুক্তির জন্য সান ফার্মা হয়ে উঠবে বিশ্বের এক নম্বর অংশীদার।