মায়ের বিরুদ্ধে করা মারধরের মামলা কি তবে মিটমাট? দিল্লি হাইকোর্টে নাটকীয় মোড় নিলেন সমীর মোদী!

তামাক জায়ান্ট ‘গডফ্রে ফিলিপস ইন্ডিয়া’র অন্দরে মা ও ছেলের দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে অবশেষে মিলল স্বস্তির নিশ্বাস। প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সমীর মোদী তাঁর মা বীণা মোদী এবং প্রবীণ আইনজীবী ললিত ভাসিনের বিরুদ্ধে করা মারধরের মামলাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি সৌরভ ব্যানার্জী এই ফৌজদারি মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করে দেন।

হাইকোর্টে ভিডিও কনফারেন্স ও রফা:
এদিন মামলার শুনানিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন বীণা মোদী, সমীর মোদী এবং ললিত ভাসিন। আদালত জানতে চায় যে, উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো লিখিত সমঝোতা বা অর্থের লেনদেন হয়েছে কি না। উত্তরে সমীর মোদী জানান, কোনো মীমাংসা দলিল না থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে নিম্ন আদালতের কার্যক্রমকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বীণা মোদী ও তাঁর আইনজীবী।

ঘটনার সূত্রপাত: ভেঙেছিল আঙুল, হয়েছিল অস্ত্রোপচার!
ঘটনাটি ঘটেছিল ৩০ মে, ২০২৪-এ। সমীর মোদীর অভিযোগ ছিল:

গডফ্রে ফিলিপস-এর জাসোলা অফিসে একটি বোর্ড মিটিংয়ে যোগ দিতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়।

বীণা মোদীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুরেন্দ্র প্রসাদ তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন।

এই ধস্তাধস্তিতে সমীরের আঙুল ভেঙে যায় এবং পরবর্তীতে তাঁকে অস্ত্রোপচার করতে হয়।

পুলিশি তদন্ত ও আদালতের অবস্থান:
দিল্লি পুলিশ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে চার্জশিটে জানিয়েছিল যে, বীণা মোদী ও ললিত ভাসিনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তবে সমীর মোদীর আবেদনের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিম্ন আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। উচ্চ আদালত সেই কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল এবং আজ তা চিরতরে খারিজ করে দেওয়া হলো।

ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই:
সমীর মোদী ও তাঁর মা বীণা মোদীর মধ্যে এই বিবাদ আসলে কয়েক হাজার কোটি টাকার মোদী সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। সমীরের দাবি ছিল, তাঁর মা পারিবারিক ট্রাস্টের অব্যবস্থাপনা করছেন এবং তাঁকে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে রাখছেন। অন্যদিকে, বীণা মোদীর পক্ষে আইনজীবী মুকুল রোহাতগি দাবি করেন যে, মারধরের অভিযোগটি ছিল ভিত্তিহীন এবং ঘটনার দিন বীণা মোদীই উল্টে পরিস্থিতি শান্ত করেছিলেন।

মামলাটি প্রত্যাহারের ফলে ব্যক্তিগত শত্রুতা কিছুটা কমলেও, ব্যবসায়িক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই আগামীতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে করপোরেট মহল।