শুতে যাওয়ার আগে জল খাচ্ছেন? অজান্তেই নিজের শরীরের বড় ক্ষতি করছেন না তো! জেনে নিন আসল নিয়ম

সারাদিন তো জল খেলেনই, রাতে শুতে যাওয়ার আগে আবার এক গ্লাস জল ঢকঢক করে খেয়ে নিলেন? ভাবলেন শরীর হাইড্রেটেড থাকবে। কিন্তু জানেন কি, এই অভ্যাসই আপনার ঘুমের বারোটা বাজাচ্ছে? আবার একদম না খেলেও হতে পারে ডিহাইড্রেশন। তাহলে সুস্থ থাকতে রাতে ঠিক কতটা জল খাবেন?

রাতে জল কি আদৌ দরকার?
চিকিৎসকদের মতে, এটি নির্ভর করে আপনার সারাদিনের রুটিনের ওপর। এসি ঘরে থাকলে বা ঘাম কম হলে আলাদা করে রাতে জল না খেলেও চলে। তবে গরমে ঘামলে বা মাথা ধরলে এক গ্লাস (২০০-২৫০ মিলি) জল খেয়ে নেওয়া ভালো। এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও কমে।

সুস্থ থাকতে মানুন এই ৩টি ‘গোল্ডেন রুল’:

টাইমিং ঠিক রাখুন: ঘুমানোর ঠিক আগে জল খাবেন না। অন্তত ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে জল খাওয়া শেষ করুন। এতে কিডনি পরিশ্রুত করার সময় পাবে এবং মাঝরাতে বাথরুম যাওয়ার জন্য ঘুম ভাঙবে না।

চুমুক দিয়ে খান: একবারে অনেকটা জল না খেয়ে অল্প অল্প করে চুমুক দিয়ে খান। রাতে মেটাবলিজম ধীর থাকে, তাই হড়হড় করে জল খেলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

তাপমাত্রা বুঝুন: ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা জল একদম নয়। ঘরোয়া তাপমাত্রার জল বা হালকা গরম জল খান। এতে হজম ভালো হয় এবং ঘুম গভীর হয়।

বেশি জল খেলে কী বিপদ হতে পারে?

১. নকটুরিয়া: রাতে বারবার প্রস্রাব পাওয়াকে বলে নকটুরিয়া। এতে গভীর ঘুম বা ‘ডিপ স্লিপ’ ব্যাহত হয়, ফলে সকালে উঠে মেজাজ খিটখিটে থাকে ও ক্লান্তি লাগে।
২. কিডনি ও হার্টের চাপ: শোয়ার আগে অতিরিক্ত জল খেলে কিডনিকে ‘ওভারটাইম’ করতে হয়। হার্ট বা কিডনির রোগীদের ক্ষেত্রে এতে পা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে।
৩. সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট: ১ লিটারের বেশি জল একবারে খেলে রক্তে সোডিয়াম কমে যেতে পারে (হাইপোনাট্রেমিয়া)। এতে মাথা ঘোরা, বমিভাব এমনকি খিঁচুনিও হতে পারে।
৪. অ্যাসিড রিফ্লাক্স: ডিনারের পরেই শুয়ে পড়ে জল খেলে বুক জ্বালা বা টক ঢেকুর উঠতে পারে।

কাদের সাবধান হওয়া জরুরি?
হার্টের রোগী, ডায়াবেটিস, কিডনি সমস্যা বা প্রোস্টেটের সমস্যায় যারা ভুগছেন, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রাতে বেশি জল খাবেন না। গর্ভবতী মহিলাদেরও এই বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রাতের রুটিন কেমন হবে?

সন্ধ্যা ৭টার পর চা বা কফি এড়িয়ে চলুন।

ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে এক গ্লাস জল খান।

মাঝরাতে গলা শুকিয়ে গেলে বিছানার পাশে রাখা জল থেকে মাত্র দু-এক চুমুক খান।

শেষ কথা: জলই জীবন, কিন্তু অসময়ে বা অতিরিক্ত খেলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে বিষ। আপনার শরীর আপনাকে যে সংকেত দেয়, তা বুঝুন এবং লিমিট মেনে জল পান করুন।