রক্তমাখা শৈশব! চোখের সামনে বাবাকে মরতে দেখেছিলেন হলিউড সুন্দরী, ২৫ বছর পর ফাঁস করলেন হাড়হিম করা সত্যি।

গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের চাকচিক্য, অস্কারের মঞ্চ আর বিশ্বজোড়া খ্যাতি— শার্লিজ থেরনের (Charlize Theron) জীবনকে বাইরে থেকে দেখলে রূপকথার মতোই মনে হয়। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গাঢ় অন্ধকার অতীত। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের চোখের সামনে নিজের বাবাকে খুন হতে দেখেছিলেন এই অভিনেত্রী। আর সেই ট্রিগার টিপেছিলেন খোদ তাঁর মা! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন শার্লিজ।
নেশা আর আতঙ্কে ঘেরা ছোটবেলা
শার্লিজ জানিয়েছেন, তাঁর বাবা চার্লস থেরন ছিলেন চরম মদ্যপ। বাবার ভয়ে সবসময় সিঁটিয়ে থাকতেন তিনি ও তাঁর মা গেরডা থেরন। ১৯৯০ সালের সেই অভিশপ্ত রাতে শার্লিজ ও তাঁর মা এক কাকার বাড়ি থেকে ফিরেছিলেন। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় থাকা বাবা শার্লিজের ওপর চড়াও হন। সেখান থেকে কোনওরকমে বাড়িতে পালিয়ে এলেও রেহাই মেলেনি।
সেই ভয়ংকর রাত: যখন দরজায় চলল গুলি
বাড়ি ফিরেও বাবা শান্ত হননি। রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বাড়িতে ঢোকেন তিনি। ১৫ বছরের কিশোরী শার্লিজ তখন বিছানায় শুয়ে ঘুমের ভান করছিলেন। মদ্যপ বাবা দরজার লক লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন। শার্লিজের মা আলমারি থেকে নিজের বন্দুক বের করে আনেন আত্মরক্ষার জন্য। বাবা যখন দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে মারতে উদ্যত হন, তখনই নিজের ও মেয়ের প্রাণ বাঁচাতে পালটা গুলি চালান মা গেরডা।
আদালতের রায় ও জীবনের মোড়
মায়ের ছোড়া সেই গুলিতেই প্রাণ হারান শার্লিজের বাবা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাকাও আহত হন। যদিও আদালত একে ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে গণ্য করে শার্লিজের মাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছিল। শার্লিজ বলেন, “আমি সেই ঘটনা নিয়ে লজ্জিত নই। আমি চাই মানুষ জানুক পারিবারিক হিংসার শিকার হওয়া পরিবারগুলোর অবস্থা কেমন হয়।”
লাইমলাইটের আলোয় আসার আগে এক কিশোরীর সেই রক্তমাখা রাতের স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে সেই ট্রমা কাটিয়েই আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল এবং সাহসী অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।