১ মে-র ডেডলাইন: ট্রাম্পের আল্টিমেটাম না কি আলোচনার টেবিল? মধ্যপ্রাচ্যে কি শুরু হতে চলেছে মহাপ্রলয়?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে কি তবে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে? শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার কথা থাকলেও, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নাটকীয় পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কোনো কথা না বলেই তিনি ওমানের উদ্দেশে রওনা হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—কূটনীতি কি তবে ব্যর্থ? না কি ১ মে-র ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই শুরু হবে বিধ্বংসী সংঘাত?

ইসলামাবাদে ‘লুকোচুরি’, নেপথ্যে কি আইআরজিসি?

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার কথা ছিল। জল্পনা ছিল, মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু আরাঘচি সাফ জানিয়ে দেন, “চাপের মুখে আলোচনা অসম্ভব।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের দাবি, ইরানের ভেতরে বর্তমানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে। একদিকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও আরাঘচির মধ্যপন্থী গোষ্ঠী যারা আলোচনার মাধ্যমে বিপর্যয় এড়াতে চান; অন্যদিকে শক্তিশালী আইআরজিসি (IRGC), যারা আলোচনার প্রস্তাবকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ মনে করছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর অবর্তমানে আইআরজিসি এখন অনেক বেশি আগ্রাসী, যা শান্তি আলোচনার পথ অবরুদ্ধ করে দিচ্ছে।

১ মে: ট্রাম্পের হাতে সময় কম, যুদ্ধের দামামা তুঙ্গে

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ ঘোষণার পর, মার্কিন আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। সামরিক মোতায়েনের ৬০ দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ১ মে। ট্রাম্প চাইছেন এই তারিখের আগেই চূড়ান্ত সমাধান—হয় আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা, নয়তো সম্পূর্ণ সামরিক ধ্বংসযজ্ঞ।

রণসজ্জা সম্পূর্ণ: ঘিরে ফেলা হয়েছে ইরানকে

আলোচনার প্রস্তাব থাকলেও পর্দার আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না পেন্টাগন।

  • মার্কিন তৎপরতা: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ১২টি F/A-18 যুদ্ধবিমান এবং একাধিক আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার (KC-46) মোতায়েন করা হয়েছে।

  • নৌবাহিনী: পারস্য উপসাগরে ৩টি বিমানবাহী রণতরী, ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং ১৫,০০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

  • ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, “পশ্চিম এশিয়ার চেহারা বদলে দেওয়ার এটাই সময়।”

পাল্টা চ্যালেঞ্জ তেহরানের

ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ২০০০ কিলোমিটার পাল্লার মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে তারা। দাবি করা হচ্ছে, প্রতিদিন ১০০০-এর বেশি আধুনিক অস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করছে দেশটির ৯০০০টি সহযোগী সংস্থা।

উপসংহার: পাকিস্তান ও ওমান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও আগামী ২৪ ঘণ্টা বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংকটময়। ১ মে-র সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, কূটনৈতিক আলোচনার চেয়ে কামানের গর্জন শোনার সম্ভাবনা তত জোরালো হচ্ছে।