“মমতাকে কেন ছোঁয় না মোদী?” শ্রীরামপুরের মঞ্চ থেকে ‘সেটিং’ তত্ত্ব উস্কে দিলেন ক্ষুব্ধ রাহুল গান্ধী!

বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে বঙ্গ রাজনীতিতে যেন পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটালেন রাহুল গান্ধী। শনিবার হুগলির শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে সরাসরি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে তিনি দাবি করলেন, মমতা আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘সরাসরি’ লড়াই করেন না। উল্টে তিনি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রবেশের পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছেন।

“৫৫ ঘণ্টা জেরা বনাম শূন্য”: ইডি-সিবিআই নিয়ে প্রশ্ন

নিজের ওপর হওয়া কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাপটের কথা তুলে ধরে রাহুল বলেন, “আমাকে ইডি ৫৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, আমার বাড়ি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সাংসদ পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে। কিন্তু আমি জানতে চাই, বিজেপির ইডি বা সিবিআই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক’টা মামলা করেছে? কেন তাঁকে জেরা করা হয় না?” রাহুলের এই মন্তব্য ‘বিজেপি-তৃণমূল সেটিং’ জল্পনাকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

চাকরি ও দুর্নীতি নিয়ে তোপ

হিন্দমোটরের বন্ধ কারখানার দিকে আঙুল দেখিয়ে রাহুল বলেন, প্রথমে বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল বাংলার শিল্পকে ধ্বংস করেছে। তাঁর অভিযোগ:

  • বেকারত্ব: বাংলায় চাকরি পেতে হলে তৃণমূল নেতার আত্মীয় হতে হয়। ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য হাহাকার করছেন।

  • দুর্নীতি: মোদীর যেমন আদানি আছে, মমতার তেমনই আছে সারদা-রোজভ্যালি। গরিবের টাকা লুঠের কারিগর দুজনেই।

  • আরজি কর ইস্যু: নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরজি করের সেই নৃশংস ঘটনার কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি।

“কুকুরের সঙ্গে বিস্কুট খাচ্ছেন রাহুল”: পাল্টা আক্রমণ তৃণমূলের

রাহুলের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরেই কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মন্ত্রী ডঃ শশী পাঁজা বলেন, “রাহুল গান্ধীর মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। যখন আমাদের নেতাদের ইডি-সিবিআই তলব করে, তখন রাহুল গান্ধী কুকুরের সঙ্গে খেলেন আর বিস্কুট খাওয়ান। কংগ্রেসের ক্ষমতা থাকলে হরিয়ানা বা মহারাষ্ট্রে বিজেপি জিততে পারত না।”

রাহুলের মতে, ভোট মিটে গেলেই মোদী আর মমতার বিরুদ্ধে কথা বলবেন না। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি, কংগ্রেসই আসলে বিজেপিকে হারাতে ব্যর্থ। দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এই ‘বাকযুদ্ধ’ বাংলার রাজনৈতিক ময়দানকে যে চূড়ান্ত উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।