শান্তি আলোচনার মুখে বারুদ! ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের জাহাজ আটক করল মার্কিন নৌবাহিনী

একদিকে শান্তির ললিত বাণী, অন্যদিকে রণতরীর হুঙ্কার। পারমাণবিক এবং বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বে জেরবার ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিতীয় দফার সমঝোতা বৈঠক যখন পাকিস্তানে শুরু হওয়ার মুখে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ করে তুলল মার্কিন নৌবাহিনী। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করল আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

হরমুজে টানটান উত্তেজনা

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ২৪ এপ্রিল শুক্রবার ইরানের পতাকা লাগানো একটি জাহাজ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বন্দরে পৌঁছনোর চেষ্টা করছিল। মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস রাফেল’ (USS Rafael) তৎক্ষণাৎ জাহাজটিকে পথ আটকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। সেন্টকম তাদের ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে জাহাজের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, হরমুজে মার্কিন অবরোধ ভেঙে কোনও জাহাজকেই চলাচল করতে দেওয়া হবে না।

শান্তি বৈঠকের সমীকরণ বদল: ট্রাম্পের নতুন চাল

মজার বিষয় হলো, এই জাহাজ আটকের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে। তবে এবারের বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রতিনিধিদলে বড় বদল এনেছেন:

  • ভান্স আউট, কুশনার ইন: প্রথম দফার বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স নেতৃত্বে থাকলেও ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা ব্যর্থ হয়। তাই এবার ট্রাম্প তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ-কে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন।

  • ইরানের প্রতিনিধি: অন্যদিকে ইরানের পক্ষে থাকছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে প্রথম দফার প্রধান মধ্যস্থতাকারী মহম্মদ বাকের গালিবাফ এবার অনুপস্থিত।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে শঙ্কা

হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ। এই পথে মার্কিন অবরোধ এবং বারবার জাহাজ আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার ঠিক আগে জাহাজ আটক করে আসলে ইরানকে আলোচনার টেবিলে চাপে রাখতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইসলামাবাদে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ যখন আমোনে-সামনে বসছে, তখন সমুদ্রের এই উত্তেজনা আলোচনার মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে বিশ্ব কূটনীতি।