সৌর প্যানেলে ১২৩% অতিরিক্ত কর! বন্ধুত্বের আড়ালে কি ভারতের সঙ্গে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ শুরু করল আমেরিকা?

ভারত ও আমেরিকার মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাঝেই তৈরি হলো বড়সড় ফাটল। ভারতীয় সৌরশক্তি (Solar Energy) শিল্পের ওপর কার্যত ‘বোমা’ ফাটাল জো বাইডেন প্রশাসন। ভারতীয় সৌর প্যানেল ও সেলের ওপর ১২৩.০৪ শতাংশ প্রাথমিক ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং’ শুল্ক আরোপ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ভারতের সৌর রপ্তানির ওপর মোট করের বোঝা এখন ২০০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেল।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ আমেরিকার?
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের দাবি, মুন্ড্রা সোলার (আদানি গোষ্ঠী), কোওয়া এবং প্রিমিয়ার এনার্জি-র মতো ভারতীয় সংস্থাগুলো তদন্তে অসহযোগিতা করেছে এবং সঠিক তথ্য জমা দেয়নি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ভারতীয় সংস্থাগুলো আমেরিকার বাজারে সস্তা দরে পণ্য ছেড়ে স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে (ডাম্পিং)। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নিয়মটি আদেশ জারির ৯০ দিন আগে কেনা পণ্যের ওপরও কার্যকর হতে পারে।
ক্ষুব্ধ ভারতীয় শিল্পমহল, লড়াইয়ের ডাক
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক ও ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দেগে দিয়েছে ভারতীয় সোলার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA)। ন্যাশনাল সোলার এনার্জি ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (NSEFI)-র সিইও সুব্রহ্মণ্যম পুলিপাকা জানিয়েছেন, এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে আইনি লড়াই লড়তে ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত।
শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ ও বিকল্প বাজার
আমেরিকার এই ঘোষণার প্রভাব শুক্রবার ভারতের শেয়ার বাজারে স্পষ্ট ছিল:
-
ওয়ারি এনার্জি এবং বিক্রম সোলার-এর মতো বড় সংস্থাগুলোর শেয়ার দরে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে।
-
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় রপ্তানিকারকরা গত কয়েক বছরে আমেরিকা ছাড়াও ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের বাজার ছড়িয়ে দিয়েছেন, ফলে সামগ্রিক বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কম হতে পারে।
সম্পাদকের মত: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে যখন বড় মাপের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময়ে এই ধরণের কড়া অবস্থান দিল্লির ওপর চাপ তৈরির কৌশল বলেই মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই ‘শুল্ক-নীতি’র বদলে ওয়াশিংটনকে কী বার্তা দেয়।