“রক্ত আর জল একসঙ্গে বইবে না!” মোদীর কড়া চালে জলশূন্য পাকিস্তান, রাষ্ট্রসংঘে আর্তনাদ ইসলামাবাদের

গরমের দাবদাহে যখন পুড়ছে গোটা উপমহাদেশ, তখনই পাকিস্তানের ওপর নেমে এল ভারতের বজ্রকঠিন সিদ্ধান্ত। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ পুষে রাখার মাসুল এবার তৃষ্ণার্ত থেকেই দিতে হচ্ছে ইসলামাবাদকে। ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি’ (Indus Waters Treaty) ভারত স্থগিত রাখার পরেই পাকিস্তানে দেখা দিয়েছে চরম মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট।
মোদীর হুঙ্কার: রক্ত ও জল একসাথে নয়
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের এপ্রিলে, যখন কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়। তার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা মন্ত্রিসভা (CCS) এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “রক্ত ও জল এক সঙ্গে বইতে পারে না।” ভারত সাফ জানিয়েছে, পাকিস্তান যতক্ষণ না সন্ত্রাসবাদকে সমূলে বিনাশ করছে, ততক্ষণ সিন্ধু নদীর জলের লাইফলাইন তাদের জন্য বন্ধ থাকবে।
শুকিয়ে যাচ্ছে পাক কৃষিজমি, রাষ্ট্রসংঘে নালিশ
পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমি সিন্ধু নদী ও তার উপনদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। চুক্তি স্থগিত হওয়ার ফলে গ্রীষ্মের শুরুতে জলের অভাবে হাহাকার শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার ইতিমধ্য়েই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) ভারতের বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। পাক বিদ্যুৎমন্ত্রী একে ভারতের তরফে “জলযুদ্ধ” বলে অভিহিত করেছেন। তবে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বতানেনি কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হলে কোনও আলোচনা সম্ভব নয়।
ভারতের মেগা প্রজেক্ট: এবার জল পাবে রাজস্থান-হরিয়ানা
পাকিস্তানকে চাপে রাখার পাশাপাশি নিজের জলসম্পদ রক্ষায় বড় চাল দিয়েছে ভারত। সরকার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেগা ক্যানাল এবং ১২টি বড় টানেল নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।
-
লক্ষ্য: সিন্ধু নদীর অতিরিক্ত জল টানেলের মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধী ক্যানেল এবং গঙ্গা ক্যানেল হয়ে যমুনা নদীতে নিয়ে যাওয়া।
-
উপকারভোগী: রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং হরিয়ানার মতো উত্তর ভারতের শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে এর ফলে সেচ ও পানীয় জলের চিরস্থায়ী সমাধান হবে।
উপসংহার: ভারতের এই ‘জল-নীতি’ ইসলামাবাদকে এক কোণঠাসা পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে জলের অভাবে কৃষিকাজ ও জনজীবন বিপন্ন, অন্যদিকে ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে পাক ভূখণ্ডে জলের প্রবাহ চিরতরে কমে যাওয়ার আশঙ্কা। সন্ত্রাসবাদের সমর্থন ত্যাগ না করলে পাকিস্তানের সামনে যে খুব অন্ধকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, দিল্লির এই কড়া অবস্থান তারই ইঙ্গিত।